যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার পারদ আরও বাড়িয়ে দিয়ে এবার ইরানি এয়ারলাইন্সগুলোর ওপর কঠোর বিধি-নিষেধ আরোপের ঘোষণা দিয়েছে ওয়াশিংটন। একই সঙ্গে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে টোল আদায়ের প্রক্রিয়ায় ইরানকে কোনো ধরনের সহযোগিতা করলে বন্ধুরাষ্ট্র ওমানকেও কঠোর নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট।
এক এক্স (সাবেক টুইটার) বার্তায় তিনি হুঁশিয়ারির সুরে জানিয়েছেন, মার্কিন প্রশাসন খুব শীঘ্রই ইরানি বিমান সংস্থাগুলোর অবতরণের অধিকার, জ্বালানি নেওয়া এবং টিকিট বিক্রির সুবিধা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিতে যাচ্ছে। তবে এই কঠোর অবস্থানের মধ্যেও ধর্মীয় বিষয়টিকে ছাড় দেওয়া হয়েছে। ট্রেজারি সেক্রেটারি পরবর্তীতে এক সংবাদ সম্মেলনে নিশ্চিত করেন যে, মক্কা বা মদিনায় পবিত্র হজ ও ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে যাওয়া সাধারণ ইরানি তীর্থযাত্রী এবং বৈধ মানবিক কারণগুলোর ক্ষেত্রে এই বিমান চলাচলের ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে না।
২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরান যুদ্ধের পর তেহরান কার্যত বিশ্বের অন্যতম প্রধান জ্বালানি সরবরাহ পথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়ে উঠেছে। যদিও গত ৮ এপ্রিল থেকে একটি যুদ্ধবিরতি চলছে এবং পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে একটি কূটনৈতিক সমাধানের চেষ্টা চালাচ্ছে, তবে মাঠপর্যায়ে এখনো সংঘাত পুরোপুরি থামেনি।
এরই ধারাবাহিকতায় ইরান সম্প্রতি হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর ফি আদায়ের জন্য ‘পার্সিয়ান গালফ স্ট্রেট অথরিটি’ নামের একটি নতুন সংস্থা গঠন করলে, গত বুধবারই সেটির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ। শুধু তাই নয়, যারা এই সংস্থাকে টোল পরিশোধ করবে, তারা ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডসকে সহায়তা করছে বলে গণ্য হবে এবং তারাও মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়তে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
এই সংকটের মাঝে ওমানের ভূমিকা নিয়ে ওয়াশিংটনের ক্ষোভ প্রকাশ পেয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ট্রেজারি সেক্রেটারির সাম্প্রতিক বক্তব্যে। ইরান ও ওমান যৌথভাবে হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণ করতে পারে এমন গুঞ্জনের মধ্যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ওমানকে কঠোর সামরিক হুঙ্কার দিয়েছেন। অন্যদিকে স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, ওমান যদি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এই টোল আদায়ের সাথে যুক্ত হয়, তবে ওমানের ব্যক্তি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর চরম নিষেধাজ্ঞা নেমে আসবে।
অবশ্য, ওয়াশিংটনে নিযুক্ত ওমানি রাষ্ট্রদূতের সাথে বৈঠকের পর বেসেন্ট জানিয়েছেন, ওমান এই প্রণালিতে কোনো ধরনের টোল ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা নেই বলে যুক্তরাষ্ট্রকে আশ্বস্ত করেছে।
সূত্র: টিআরটি

