মধ্যপ্রাচ্যে চলা উত্তেজনার মধ্যে সরবরাহ সংকটের মুখে বাণিজ্যিক তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস এবং আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলোর জন্য জেট ফুয়েলের দাম বাড়িয়েছে ভারত।
দেশটির রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন একটি জ্বালানি সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর ভারত ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। যার মধ্যে রয়েছে প্রায় ৬০ শতাংশ তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস(এলপিজি)। এই জ্বালানি দেশটির জনসংখ্যার এক বিশাল অংশ রান্নার কাজে ব্যবহার করে, যা বিশ্বে বৃহত্তম।
চলতি ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে আমদানি ব্যাহত হওয়ায় নয়াদিল্লিতে গৃহস্থালি এবং অত্যাবশ্যকীয় খাতগুলোতে পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার পদক্ষেপ নিয়েছে, যার ফলে অনেক রেস্তোরাঁ, উৎপাদনকারী এবং বিদ্যুৎ কেন্দ্র বিপাকে পড়েছে।
তবে সরকার দাবি করছে, সামগ্রিকভাবে কোনো জ্বালানি ঘাটতি নেই। দেশের প্রধান জ্বালানি বিপণন সংস্থা ইন্ডিয়ান অয়েল করপোরেশন লিমিটেড (আইওসিএল) জানিয়েছে, পাইকারি এবং বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের দাম সংশোধন করা হয়েছে।
আইওসিএল-এর মূল্য তালিকা অনুযায়ী, বাণিজ্যিক ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত ১৯-কিলোগ্রামের এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৯৯৩ রুপি বা ৪৭.৮% বাড়িয়ে ৩,০৭১.৫ রুপি করা হয়েছে।
আইওসিএল আরও জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলোর জন্য এভিয়েশন টারবাইন জ্বালানির দাম প্রতি কিলোলিটারে ৭৬.৫৫ ডলার বাড়িয়ে ১,৪৩৫.৩১ ডলার থেকে ১,৫১১.৮৬ ডলার করা হয়েছে। যদিও রান্নার জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত গৃহস্থালির এলপিজির দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। কোম্পানিটি জানিয়েছে, অভ্যন্তরীণ বিমান সংস্থাগুলোর জন্য জেট ফুয়েলের দামও সংশোধন করা হয়নি। চলমান ইরান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর বিশ্বব্যাপী তেলের দামে তীব্র উল্লম্ফনের মধ্যেই এই মূল্যবৃদ্ধি ঘটল, যা ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।
সূত্র: রয়টার্স।

