ঘরের মাঠে টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান খুব একটা সুবিধার নয়। বিদেশের মাটিতে জয়ের হার বাড়লেও মিরপুরের চেনা আঙিনায় গত চক্রে সাফল্য ছিল নগণ্য। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের নতুন চক্রে ঘরের মাঠে নিজেদের প্রথম অভিযানে নামার আগে তাই অতীতের সেই আক্ষেপ ঘোচাতে মরিয়া অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টের আগে সংবাদ সম্মেলনে আজ পরিষ্কার ভাষায় নিজের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন টাইগার অধিনায়ক।
ঘরের মাঠে শেষ ছয় টেস্টের পরিসংখ্যান বলছে, বাংলাদেশ মাত্র একবার ৩০০ রানের গণ্ডি পেরোতে পেরেছে। বাকি ম্যাচগুলোতে ২০০ রান তুলতেই হিমশিম খেতে হয়েছে ব্যাটসম্যানদের। নাজমুল শান্ত মনে করেন, প্রথম ইনিংসের বড় সংগ্রহই বদলে দিতে পারে টেস্টের ভাগ্য। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, এবার লক্ষ্যটা অন্তত ৪০০ রানের। তবে এই রান কত দ্রুত বা কত ধীরে এল, তা নিয়ে মাথা ঘামাতে রাজি নন অধিনায়ক। তাঁর মতে, রান করাটাই আসল কথা। কেউ যদি ৮০ ওভারে ৪০০ করতে পারে তাতেও সমস্যা নেই, আবার ১২০ ওভার খরচ করলেও তাতে কোনো আপত্তি নেই টিম ম্যানেজমেন্টের।
দলের ব্যাটারদের প্রতি বিশেষ বার্তা দিয়ে শান্ত জানিয়েছেন, প্রত্যেকের নিজস্ব খেলার ধরন পরিবর্তনের প্রয়োজন নেই। যে যেভাবে খেলতে পছন্দ করেন, সেভাবেই দলের জন্য অবদান রাখাটা জরুরি। পাকিস্তানের বিপক্ষে এই সিরিজে অভিষেক হতে পারে তানজিদ হাসান ও অমিত হাসানের। তাঁদের বাদ দিলে দলে থাকা বাকি সবাই অভিজ্ঞ। বিরুদ্ধ কন্ডিশনে খেলার অভিজ্ঞতা থাকলেও ঘরের মাঠে এবার নিজেদের প্রমাণ করার চ্যালেঞ্জ তাঁদের সামনে। মিরপুরের উইকেট নিয়ে এবার ইতিবাচক নাজমুল। স্পোর্টিং উইকেটে ব্যাটার এবং বোলার, উভয় পক্ষই সমান সুবিধা পাবে বলে আশা করছেন তিনি।
সাদা বলের ক্রিকেটে মিরপুরের উইকেটে সাম্প্রতিক সময়ে যে পরিবর্তন দেখা গেছে, তা টেস্টেও বজায় থাকবে বলে বিশ্বাস অধিনায়কের। ব্যাটাররা এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বড় ইনিংস খেলবেন, এটাই এখন দলের প্রধান প্রত্যাশা।
আগামীকাল মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে শুরু হতে যাওয়া এই প্রথম টেস্ট দিয়েই বাংলাদেশের সামনে সুযোগ থাকছে ঘরের মাঠে হৃত গৌরব পুনরুদ্ধারের। এরপর ১৬ মে সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে শুরু হবে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট। পাকিস্তান সফরের সেই ঐতিহাসিক স্মৃতি মনে রেখেই কাল মাঠে নামবে শান্ত বাহিনী।

