বরিশালে বিদ্যুৎ লাইন মেরামতের কথা বলে বাসায় ডেকে এনে এক ‘হানিট্র্যাপ’ চক্রের বিরুদ্ধে ইলেকট্রিক মিস্ত্রিকে আটকে রেখে নির্যাতন ও মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এক দম্পতিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
এ সময় তাদের কাছ থেকে গাঁজা ও ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন, সুমাইয়া আক্তার ও তার স্বামী কাওরান ইসলাম আকাশ। তাদের নগরীর রূপাতলী সোহরাব হাউজিং এলাকার আহমেদ মোল্লা সড়কের ব্যাংকার্স গলির একটি বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ জানায়, কয়েকদিন আগে নগরীর রূপাতলী হাউজিং এলাকার একটি ভবনের ফ্ল্যাট ভাড়া নেয় চক্রটি। এরপর বিভিন্ন ব্যক্তিকে কৌশলে বাসায় ডেকে এনে প্রলোভন ও ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায় করছিল তারা।
ভুক্তভোগী বাবুগঞ্জ উপজেলার চাঁদপাশা এলাকার ইলেকট্রিক মিস্ত্রি মো. ইউসুফ জানান, নগরীর কাশিপুর এলাকায় সুমাইয়া আক্তারের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে ওই নারী রূপাতলীর বাসায় বিদ্যুতের লাইন মেরামতের জন্য তাকে ডেকে নেন। গত ৫ মে সন্ধ্যায় সহকারী মোতাহারকে নিয়ে তিনি ওই বাসায় যান। সহকারীকে নিচে রেখে তিনি তৃতীয় তলার ফ্ল্যাটে উঠেন। সেখানে ঢোকার পরপরই দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং ঘরের লাইট নিভিয়ে তাকে মারধর শুরু করা হয়।
ইউসুফের অভিযোগ, চক্রের সদস্যরা তাকে নারী নির্যাতন মামলার ভয় দেখিয়ে এক লাখ টাকা দাবি করে। পরে তার সহকারী মোতাহারকেও ঘরে তুলে এনে নির্যাতন করা হয়। একপর্যায়ে বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে ২৩ হাজার টাকা নেওয়ার পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
কোতয়ালী মডেল থানার উপ-পরিদর্শক ইসতিয়াক মামুন জানান, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে সুমাইয়াকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার বাসা থেকে কিছু গাঁজা ও আট পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে।
চক্রটির বিরুদ্ধে হানিট্র্যাপ ও মাদক আইনে পৃথক দুটি মামলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কোতয়ালী মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) লুৎফর রহমান।
তিনি বলেন, দুই মামলায় চার জনকে আসামি করা হয়েছে। চক্রের মূল হোতা হিসেবে অভিযুক্ত কাওরান ইসলাম আকাশকে আজ দুপুরে গ্রেফতার করা হয়। এছাড়া ভুক্তভোগীদের দুটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছে পুলিশ। আদায় করা টাকাও উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

