হারারে টেস্টে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশি স্পিনার তাইজুল ইসলামের ৭ উইকেটের দাপুটে স্পেলের পর ৪১০ রানে অলআউট হয়েছে জিম্বাবুয়ে। এতে জিম্বাবুয়ের লিড হয়ে গেছে ২৭০ রান।
এর আগে, রবিবার মাত্র ৪৭.২ ওভারে ১৪০ রানে অলআউট হয়েছে বাংলাদেশ। ব্যাটারদের ব্যর্থতায় এত অল্প রানে গুটিয়ে যাওয়ার পর টাইগার বোলাররাও সুবিধা করতে পারেনি। দলের অন্য বোলাররা যেখানে নিজেদের খুঁজে ফিরছিলেন, সেখানে তাইজুল একাই ৭ উইকেট নিলেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ এখন জিম্বাবুয়ের হাতে।
রবিবার প্রথম ইনিংসে খেলতে নেমে শুরুটা দুর্দান্ত করে জিম্বাবুয়ের দুই ওপেনার ইনোসেন্ট কাইয়া ও বেন কারান। খেলেছেন ওয়ানডে মেজাজে। ৮৯ রানে প্রথম উইকেট পড়ে যায় জিম্বাবুয়ের। বেন কারান ৫১ বলে ৪২ রানে সাজঘরে ফেরেন। তার আউটের পর দিনের শেষ পর্যন্ত খেলেছেন ইনোসেন্ট কাইয়া ও ব্রেন্ডন টেইলর। ১ উইকেটে ১৩৬ রানে প্রথম দিন শেষ করে জিম্বাবুয়ে।
সোমবার দ্বিতীয় দিন শুরু করা জিম্বাবুয়ের ব্যাটাররা শুরু থেকেই বাংলাদেশের বোলারদের ওপর চড়াও হন। একপর্যায়ে ব্রেন্ডন টেলর ১৭ রানে আউট হন। তার আউটের পর ইনোসেন্ট কাইয়া দুর্দান্ত খেলতে থাকেন। তুলে নেন ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি। অন্য প্রান্তে ব্রায়ান বেনেটও খেলেন আক্রমণাত্মক ইনিংস। দু’জনের ব্যাটে বড় লিডের পথে যাচ্ছিল স্বাগতিকরা।
তবে লাঞ্চ বিরতির পর মাঠে নেমেই উইকেট হারায় জিম্বাবুয়ে। ব্রায়ান বেনেটকে ফিরিয়ে ১০৭ রানের জুটি ভাঙেন তাইজুল ইসলাম। ৬৭ বলে ৫৯ রানে সাজঘরে ফেরেন বেনেট। ২৫০ রানে তৃতীয় উইকেট হারায় জিম্বাবুয়ে।
এর কিছুক্ষণ পর সেঞ্চুরি তুলে নেওয়া ইনোসেন্ট কাইয়াকেও আউট করেন তাইজুল। তিনি ২২৭ বলে ১৪০ রান করেছেন। পর পর দুই সেটেল ব্যাটসম্যানকে আউট করে জিম্বাবুয়ের গতি কিছুটা থামিয়ে দেন তাইজুল।
তবে ক্রেইগ আরভিন ও ওয়েসলি মাধেভেরের জুটিতে সেই বাধা কাটিয়ে ওঠে জিম্বাবুয়ে। একপর্যায়ে ক্রেইগ আরভিন ৬০ রানে তাইজুলের বলে সাজঘরে ফেরেন। তার আউটের পর ওয়েসলি মাধেভেরে এক প্রান্ত আগলে রাখলেও অন্য ব্যাটাররা কেউ মাঠে ঠিকতে পারেননি তাইজুলের ঘূর্ণিতে।
শেষ পর্যন্ত সবকয়টি উইকেট হারিয়ে ৪১০ রানে থামে জিম্বাবুয়ে। ওয়েসলি মাধেভেরে ৭৭ রানে অপরাজিত ছিলেন।
এর আগে, রবিবার টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয় ১৭ বলে ২ রান করে ফিরে যান। ৬ রানের মধ্যেই প্রথম ধাক্কা খায় টাইগাররা।
তবে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন সাদমান ইসলাম ও মুমিনুল হক। দু’জন মিলে ৩০ রানের জুটি গড়লেও দলীয় ৩৬ রানে ২০ রান করে আউট হন সাদমান।
পরে মুমিনুল হক ও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ৭৭ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে ইনিংস সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে দলীয় ১১৩ রানে ৮১ বলে ৬০ রান করে নিউম্যান নিয়ামহুরির শিকার হন মুমিনুল।
এরপর ৭৩ বলে ১৯ রান করে বিদায় নেন শান্তও। এক প্রান্তে অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিমের কাছ থেকে প্রত্যাশা থাকলেও তিনি রিচার্ড এনগারাভার বলে বোল্ড হয়ে দ্রুত ফিরে যান।
তার আউটের পর আর দাঁড়াতে পারেনি বাংলাদেশের ইনিংস। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে ১৪০ রানে গুটিয়ে যায় সফরকারীরা। জিম্বাবুয়ের হয়ে নিউম্যান নিয়ামহুরি নেন ৪ উইকেট।

