গরমে পোষা প্রাণীর যত্ন নিন, সুস্থ রাখুন আপনার প্রিয় সঙ্গীকে

0
গরমে পোষা প্রাণীর যত্ন নিন, সুস্থ রাখুন আপনার প্রিয় সঙ্গীকে

তীব্র তাপপ্রবাহে বিপর্যস্ত জনজীবনের পাশাপাশি বাড়িতে পালা বিড়াল, কুকুর ও পাখিরাও পড়ছে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে। রাজধানীসহ সারাদেশে তাপমাত্রা যখন দিন দিন বাড়ছে, তখন পোষা প্রাণীর মালিকদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি হয়ে পড়েছে।

গরমের এই মৌসুমে পোষা প্রাণীদের মধ্যে ডিহাইড্রেশন বা পানিশূন্যতা দেখা যাচ্ছে। এ ছাড়াও হিট স্ট্রোক, ডায়রিয়া, জ্বর এবং ক্লান্তিজনিত সমস্যায় আক্রান্ত হচ্ছে বিড়াল, কুকুর ও পাখি। অতিরিক্ত গরমে কুকুরের নাক গরম ও শুষ্ক হয়ে যাওয়া জ্বরের লক্ষণ হতে পারে। একইসঙ্গে অস্বাভাবিক মলত্যাগ বা মলে রক্তের উপস্থিতিও গরমকালীন জটিলতার ইঙ্গিত দেয়।

চর্মরোগে আক্রান্ত হচ্ছে বেশি
এ বিষয়ে পশু চিকিৎসক ডা. আনিসুর রহমান বলেন, “বর্তমান সময়ে গরমের কারণে অনেক বেশি পোষা বিড়াল ও কুকুরের রোগ নিয়ে আসছেন মালিকেরা। এক্ষেত্রে চর্মরোগ বা ডার্মাটাইটিস সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে। প্রাণীদের ঠান্ডা স্থানে রাখা, নিয়মিত গোসল করানো এবং লোম বেশি হলে ট্রিম করে দেওয়া।  এই তিনটি কাজ করলে প্রিয় পোষা প্রাণীকে অনেকটাই সুস্থ রাখা সম্ভব।”

পোষা পাখির যত্নে যা করবেন
বাড়িতে যারা ময়না, টিয়া বা বাজরিগার পালেন, তাদেরও এই গরমে সতর্ক থাকতে হবে। পাখির খাঁচায় খাওয়ার জন্য আলাদা এবং গোসলের জন্য আলাদা পানির বাটি রাখতে হবে। প্রয়োজনে খাঁচার সামনে ফ্যান চালিয়ে রাখুন, যেন বায়ু চলাচল ঠিক থাকে।

বিড়াল ও কুকুরের জন্য করণীয়
দিনের বেলায় পোষা বিড়াল বা কুকুরকে বাড়ির বাইরে না নেওয়াই ভালো। ভোরে বা সন্ধ্যার পরে হাঁটাতে নিয়ে যান। কোনো অবস্থাতেই বন্ধ গাড়িতে পোষা প্রাণী রাখা যাবে না। ঘরের এক কোণে সবসময় তাজা পানির বাটি রেখে দিন এবং লক্ষ্য রাখুন প্রাণীটি নিয়মিত পানি পান করছে কি না।

কখন ডাক্তারের কাছে যাবেন
পোষা প্রাণী হঠাৎ চুপচাপ হয়ে গেলে, অতিরিক্ত ঘুমালে, খাওয়া-দাওয়া বন্ধ করে দিলে বা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ঘন লালা ঝরালে দেরি না করে পশু চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আপৎকালীন পরিস্থিতিতে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার জন্য আগে থেকেই ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ওষুধ হাতের কাছে রাখুন।

পোষা প্রাণী শুধু ঘরের সদস্য নয়, এরা আমাদের আবেগেরও অংশ। তাই এই কঠিন গরমে একটু বাড়তি যত্নই পারে আপনার প্রিয় সঙ্গীকে সুস্থ ও সুরক্ষিত রাখতে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here