দিনাজপুর শহরের বিভিন্ন এলাকায় কয়েক দিন ধরে একটি দলছুট মুখপোড়া হনুমানকে ঘুরে বেড়াতে দেখা যাচ্ছে। বন-জঙ্গল ছেড়ে লোকালয়ে চলে আসা হনুমানটি খাবারের সন্ধানে কখনো বাড়ির উঠানে, কখনো গাছের ডালে, আবার কখনো টিনের চাল বা ভবনের ছাদে ছুটে বেড়াচ্ছে।
বৃহস্পতিবার পৌর শহরের মিশন রোড এলাকায় বন বিভাগের কার্যালয়সংলগ্ন স্থানে হনুমানটিকে দেখা যায়। এ সময় বন বিভাগের লিচুগাছ থেকে লিচু পেড়ে খেতেও দেখা গেছে প্রাণীটিকে। পরে বন বিভাগের কর্মীরা সেটিকে সেখান থেকে সরিয়ে দেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, হনুমানটি ক্ষুধার্ত ও ক্লান্ত মনে হচ্ছে। তাই অনেকে তাকে পাউরুটি, বিস্কুট, কলা, গাজর, আলুসহ বিভিন্ন ফলমূল খেতে দিচ্ছেন। কেউ কেউ দেয়ালের ওপর খাবারের সঙ্গে পানিও রেখে দিচ্ছেন। হনুমানটি ভয়ে ভয়ে খাবার নিয়ে খাচ্ছে বলেও জানান তারা।
তবে কৌতূহলী মানুষের ভিড় ও কিছু ছেলেদের ঢিল ছোড়ার কারণে প্রাণীটি আতঙ্কিত হয়ে এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় ছুটে যাচ্ছে। কখনো গাছের মগডালে, কখনো বাসাবাড়ির সীমানাপ্রাচীর বা টিনের চালে আশ্রয় নিচ্ছে। কেউ বিরক্ত করলে মুখভঙ্গি করে ভয় দেখানো বা গর্জনও দিচ্ছে হনুমানটি।
স্থানীয় বাসিন্দা রাকিব হোসেন ও আমজাদ আলীসহ কয়েকজন বলেন, মুখপোড়া হনুমানটি শান্ত স্বভাবের এবং কারও কোনো ক্ষতি করছে না। খাবার খেয়ে এক গাছ থেকে অন্য গাছে চলে যাচ্ছে। তারা বলেন, দলছুট হয়ে লোকালয়ে আসা প্রাণীটিকে বিরক্ত না করে সবার সচেতন থাকা উচিত।
সচেতন মহলের দাবি, বন্য প্রাণীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বন বিভাগের দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। লোকালয়ে প্রাণীটির জীবন ঝুঁকিতে পড়লে সেটিকে উদ্ধার করে নিরাপদ বনাঞ্চলে অবমুক্ত করার ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
এ বিষয়ে বন বিভাগের বীট কর্মকর্তা মহসিন আলী বলেন, হনুমানটি কোনো নির্দিষ্ট এলাকায় অবস্থান করছে না। এক স্থান থেকে অন্য স্থানে চলে যাওয়ায় সেটিকে ধরা সম্ভব হচ্ছে না।

