হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে নবগঠিত যৌথ কমিটির প্রথম বৈঠক করেছে ইরান ও ওমান। বৈঠকে প্রণালিটির বর্তমান পরিস্থিতির পাশাপাশি ভবিষ্যৎ পরিচালনা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় এ তথ্য জানান ইরানের আইন ও আন্তর্জাতিকবিষয়ক উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি।
তিনি জানান, ওমানের রাজধানী মাসকাট সফরকালে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে দেশটির পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আবদুল আজিজ আল-হিনাই উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে হরমুজ প্রণালির চলমান বিভিন্ন বিষয় এবং ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে দুই পক্ষ মতবিনিময় করে।
সাম্প্রতিক সময়ে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের উসকানিবিহীন সামরিক আগ্রাসন শুরুর পর ইরান শত্রু ও তাদের মিত্রদের জন্য হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়।
পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ৭ এপ্রিল ঘোষিত যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘন করে ইরানি জাহাজ ও বন্দর অবরোধ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিলে ইরান প্রণালিতে আরও কঠোর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা কার্যকর করে।
সম্প্রতি পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়, যার উদ্দেশ্য ছিল সামরিক আগ্রাসনকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া উত্তেজনার ধারাবাহিকতা বন্ধ করা।
সমঝোতা স্মারকের পঞ্চম ধারায় হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতির বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। সামরিক আগ্রাসনের পর থেকেই হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে সার্বভৌম অধিকারকে ভিত্তি করে আলোচনা শুরু করে ইরান ও ওমান।
কাজেম গরিবাবাদি বলেন, বৈঠকে প্রণালির বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনার পাশাপাশি ইসলামাবাদে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের পঞ্চম ধারা এবং উপকূলীয় রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌম অধিকারের আলোকে ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে মতবিনিময় হয়েছে।
গত ২২ জুন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির মাসকাট সফরের পর দুই দেশের যৌথ বিবৃতি প্রকাশিত হয়। সেই বিবৃতিতে ওমান সালতানাত ও ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান জোর দিয়ে বলেছে, হরমুজ প্রণালিসংক্রান্ত যেকোনো ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষেত্রে উপকূলীয় দুই দেশের সার্বভৌমত্ব ও সার্বভৌম অধিকার সম্পূর্ণভাবে সম্মান করতে হবে।
সূত্র : প্রেসটিভি।

