ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান শান্তি আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি করছে হরমুজ প্রণালী ঘিরে নতুন উত্তেজনা। মধ্যপ্রাচ্যের এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ এখন দুই দেশের আলোচনার অন্যতম প্রধান বিরোধপূর্ণ বিষয়ে পরিণত হয়েছে বলে জানিয়েছেন এক বিশ্লেষক।
মধ্যপ্রাচ্য কৌশলগত গবেষণা কেন্দ্রের বিশ্লেষক আব্বাস আসলানি বলেন, “গত কয়েক দিনে দুই পক্ষই এই কৌশলগত ইস্যুতে নিজেদের শক্তি প্রদর্শন করেছে। হরমুজ প্রণালী ইরানের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত হাতিয়ার, যা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় ভারসাম্য তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে।”
তিনি বলেন, “এই বিষয়টি এখন আলোচনার পরিবেশকে জটিল করে তুলছে। ইরানের শীর্ষ আলোচকও জানিয়েছেন, তারা চলতি সপ্তাহে কারিগরি পর্যায়ের বৈঠক হওয়ার আশা করছেন না।”
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আসলানি বলেন, সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, যুক্তরাষ্ট্র হয়তো হরমুজ প্রণালী সম্পর্কিত সমঝোতা স্মারকের শর্তে পুরোপুরি সন্তুষ্ট ছিল না। এখন বাস্তবায়ন পর্যায়ে এসে ওয়াশিংটন হয়তো ভিন্ন কোনও সমাধান বা বিকল্প পদ্ধতির দিকে যেতে চাইছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালী নিয়ে বিরোধ কেবল সামরিক উত্তেজনার বিষয় নয়; এটি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কিত। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ হওয়ায় এই নৌপথে যেকোনও অস্থিতিশীলতা আন্তর্জাতিক বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনার পর দুই দেশ যুদ্ধবিরতি ও আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। তবে হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ, নিরাপত্তা এবং সামরিক উপস্থিতি নিয়ে মতপার্থক্য দুই পক্ষের আলোচনায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আসলানির মন্তব্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালী ইরানের জন্য শুধু একটি ভৌগোলিক অবস্থান নয়, বরং কূটনৈতিক আলোচনায় চাপ প্রয়োগের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায়। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র এই অঞ্চলে অবাধ নৌ চলাচল ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাইছে।
এ পরিস্থিতিতে দোহায় সম্ভাব্য ইরান-যুক্তরাষ্ট্র বৈঠক কতটা সফল হবে, তা অনেকাংশে নির্ভর করবে হরমুজ প্রণালী নিয়ে দুই পক্ষের অবস্থান কতটা কাছাকাছি আসে তার ওপর। সূত্র: আল-জাজিরা

