বিফ্রিংয়ে স্প্যানিশে জবাব দেওয়ায় ভিনিসিয়ুস-হাকিমিকে থামিয়ে দিলো ফিফা

0
বিফ্রিংয়ে স্প্যানিশে জবাব দেওয়ায় ভিনিসিয়ুস-হাকিমিকে থামিয়ে দিলো ফিফা

বিশ্বকাপে ব্রাজিল ও মরক্কো ম্যাচের আগে দুই দলের সংবাদ সম্মেলনে এক অদ্ভুত ঘটনা ঘটে গেছে। মাঠের কৌশল কিংবা দলের খবর ছাপিয়ে আলোচনায় চলে এসেছে ভাষা বিতর্ক। ব্রাজিলের ভিনিসিয়ুস জুনিয়র এবং মরক্কোর আশরাফ হাকিমি সাংবাদিকদের সঙ্গে স্প্যানিশ ভাষায় কথা বলতে গেলে তাদের থামিয়ে দেন ফিফা কর্মকর্তারা। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

শনিবার ভোরে অনুষ্ঠিত ব্রাজিল ও মরক্কোর ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হয়। তবে ম্যাচের আগের দিন প্রেস ব্রিফিংয়ে ঘটে উদ্ভট ঘটনা।

প্রথম ঘটনাটি ঘটে মরক্কোর অধিনায়ক আশরাফ হাকিমির ব্রিফিংয়ের সময়। মাদ্রিদে বড় হওয়ার কারণে হাকিমি স্প্যানিশ ভাষায় বেশ দক্ষ। সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিক তাকে স্প্যানিশে প্রশ্ন করলে হাকিমি স্প্যানিশেই জবাব দেওয়া শুরু করেন। ঠিক তখনই ফিফার এক কর্মকর্তা তাদের থামিয়ে দেন। তখন তিনি সাংবাদিককে ইংরেজিতে প্রশ্ন করার অনুরোধ করেন।

হাকিমি নিজে জানান যে, স্প্যানিশে কথা বলতে তার কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু ফিফা কর্মকর্তারা তাদের দাবিতে অনড় থাকেন এবং অজুহাত দেখান যে, সেখানে কোনো স্প্যানিশ দোভাষী নেই। শেষমেশ সাংবাদিক স্প্যানিশ ভাষায় প্রশ্ন করলেও হাকিমিকে বাধ্য হয়ে ইংরেজিতেই জবাব দিতে হয়।

ব্রাজিলের সংবাদ সম্মেলনেও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে। রিয়াল মাদ্রিদে খেলার কারণে ব্রাজিলের তারকা ফরোয়ার্ড ভিনিসিয়ুস জুনিয়রও খুব ভালো স্প্যানিশ বলতে পারেন। তাকে স্প্যানিশে প্রশ্ন করা হলে তিনি স্প্যানিশেই উত্তর দেওয়া শুরু করেন। কিন্তু আয়োজকরা আবারও মাঝপথে বাধা দেন এবং তাকে ইংরেজিতে কথা বলতে বলেন।

ভিনিসিয়ুস খুব ভালো ইংরেজি না জানায় বেশ অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে পড়েন। সাধারণত তিনি জনসমক্ষে পর্তুগিজ কিংবা স্প্যানিশেই কথা বলতে পছন্দ করেন। শেষপর্যন্ত স্প্যানিশ বাদ দিয়ে তিনি তার মাতৃভাষা পর্তুগিজে উত্তর দিয়ে ব্রাজিলের ম্যাচ প্রস্তুতি নিয়ে কথা বলেন।

ফিফার এমন অদ্ভুত নিয়ম নিয়ে সাধারণ ফুটবলপ্রেমী ও সাংবাদিকদের মধ্যে তীব্র সমালোচনা চলছে। এবারের বিশ্বকাপ যেখানে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, সেই উত্তর আমেরিকার একটি বিশাল অংশের মানুষ স্প্যানিশ ভাষায় কথা বলেন। স্বাগতিক দেশগুলোতে যে ভাষা এত জনপ্রিয়, সেখানে ফিফা কেন স্প্যানিশ বলতে বাধা দিল তা নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here