নেত্রকোনায় জলাবদ্ধতায় তলিয়ে গেল বোরো, ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৩৭৬ কোটি টাকা

0
নেত্রকোনায় জলাবদ্ধতায় তলিয়ে গেল বোরো, ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৩৭৬ কোটি টাকা

নেত্রকোনার হাওরের কৃষকদের দুর্ভোগ যেন কমছেই না। টানা বৃষ্টিতে জলবদ্ধতায় জেলার হাওরসহ সর্বত্র ফসল তলিয়ে এবার আর্থিকভাবে ৩৭৫ কোটি ৯১ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। তারমধ্যে শুধুমাত্র হাওরেই হয়েছে ২৩৬ কোটি ৫৩ লাখ টাকার ক্ষতি। টানা বৃষ্টির পর রোদের দেখা মেলায় কিছুটা স্বস্তি পেলেও পরক্ষনেই বৃষ্টিতে বাড়িয়ে দেয় দুর্ভোগ।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, বৃহস্পতিবারও জেলার আটপাড়া উপজেলার বাগরার ধলিপুরি হাওরের পানিতে থাকা ধান কাটছেন কৃষকেরা। ১৫ শত থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত দরে ধান কাটছেন তারা। এসকল ধান কেটে নৌকায় এনে সাথে সাথেই সড়কে বা উঁচু জায়গায় রেখে মাড়াইসহ সিদ্ধ করে বিক্রির উপযোগী করছেন। তবে খাল, বাঁধ এগুলো স্থানীয় প্রশাসনসহ নেতাদের দুর্নীতির কারণে সঠিকভাবে কাজ না করায় জলাবদ্ধতায় এই দুর্ভোগে পড়েছেন বলে অভিযোগ করেন ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক মো সলিম মিয়া।

তিনি বলেন, তাদের এলাকার খালটি নিয়ে বিগত সময়ে দুর্নীতি করায় আজ এই হাওরের সকল হাওরের পানি নামতে না পেরে বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে সব ডুবেছে। এখন বৃষ্টির জন্য আর বজ্রপাতের জন্য ধান কাটাও আগাচ্ছে না। এই রোদ এই বৃষ্টিতে শ্রমিকও দেড় থেকে দুই হাজারের নীচে কাটে না। টানা বৃষ্টির সময় তিন হাজার টাকাও শ্রমিক নিতে হয়েছে। ধানের দাম পাচ্ছি না। এই হাওরের ধানই কাটতে আরও এক সপ্তাহ লাগতে পারে বলেও জানান তিনি। 

নেত্রকোনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক কৃষিবিদ মো আমিনুল ইসলাম জানান এ পর্যন্ত পুরো জেলায় ১ লাখ ৮৫ হাজার ৫৪৭ হেক্টর জমির মধ্যে ৭৭ হাজার ২৯ হেক্টর কাটা হয়েছে। হাওর এলাকায় ৪১ হাজার ৬৫ হেক্টরের মধ্যে ২৯ হাজার ৬৬১ হেক্টর কাটা হয়েছে। পুরো জেলার নষ্ট হওয়ার পরিমাণ ধরেছে ১৭ হাজার ৪৮ হেক্টর। তার মধ্যে হাওরে ১১ হাজার ২৩০ হেক্টর জমি। হাওরে একেবারে নষ্ট হয়েছে ১০ হাজার ৭২৭ হেক্টর। তিনি জানান, জেলায় সর্বমোট ৭৭ হাজার ৩৩৬ জন কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তারমধ্যে হাওরাঞ্চলে ৩৮ হাজার ২৩৮ জন। হাওরে জমি বেশি কৃষক সংখ্যা কম। সব মিলিয়ে জেলায় এবছর আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বর্তমান বাজার দরে ৩৭৫ কোটি ৯১ লাখ টাকা। তারমধ্যে শুধু হাওরেই ২৩৬ কোটি ৫৩ লাখ। 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here