সল্লারবিলের আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৪৩০ পরিবার এখন সবুজ স্বর্গে

0
সল্লারবিলের আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৪৩০ পরিবার এখন সবুজ স্বর্গে

আশ্রয়ণ প্রকল্প বলতে মনে করা হয় মাদকের আখড়া। অনৈতিক কর্মকাণ্ডের স্থান। অনেক আশ্রয়ণ প্রকল্পের বিরুদ্ধে মাদক ও অনৈতিক কাজের স্থান হলেও, এর ব্যতিক্রম ঘটিয়েছে রংপুরের পীরগাছা উপজেলার অন্নদানগর ইউনিয়নের সল্লারবিল আশ্রয়ণ প্রকল্প।

এটি এখন কেবল মাথা গোঁজার ঠাঁই নয়, বরং এক টুকরো সবুজ স্বর্গ। ৪২ একর পতিত জমিতে এখন শোভা পাচ্ছে উন্নত জাতের লাউসহ নানা পদের বিষমুক্ত সবজি।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সঠিক দিকনির্দেশনা ও বাসিন্দাদের অক্লান্ত পরিশ্রমে এখানে ঘটে গেছে এক অনন্য ‘সবুজ বিপ্লব’। ‘সল্লারবিল মডেল’ এখন অন্যান্য আশ্রয়ণ প্রকল্পের জন্য এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা আর সঠিক কারিগরি সহায়তা পেলে ভূমিহীন এবং গৃহহীন মানুষ কীভাবে দেশের উৎপাদন খাতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে, সল্লারবিল তার এক বাস্তব উদাহরণ।

জানা গেছে, সল্লারবিল আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৪৩০টি পরিবারের প্রতিটি ঘরের চালে এবং আঙিনায় ঝুলছে লাউসহ বিভিন্ন প্রজাতির সবজির গাছ। শুধু ঘরের চালে নয়, উঠানের প্রতিটি ইঞ্চি জায়গায় চাষ করা হয়েছে মরিচ, শিম, করলা, বেগুন ও শাকসবজি। যেদিকে চোখ যায়, সেদিকেই সবুজের সমারোহ।

আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা এরশাদ হোসেন ও জাহেদা খাতুন জানান, শুরুতে এই জমিতে সবজি চাষের বিষয়ে তারা খুব একটা অভিজ্ঞ ছিলেন না। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপসহকারী কৃষি অফিসার আসাদুজ্জামান মন্ডল (রাসেল) ও আহছানুল হক (রুবেল) তাদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। তাদের কারিগরি সহায়তা এবং সার্বিক ত্ত্ত্ববধানেই এখানকার বাসিন্দারা উদ্বুদ্ধ হয়ে বসতবাড়িতে এই সবজি চাষ শুরু করেন।

প্রকল্পের আরেক বাসিন্দা আব্বাস আলী বলেন, ‘‘আমরা শুধু ঘর পেয়েছি তা নয়, কৃষি অফিসের সহায়তায় এখন নিজেদের খাবারের চাহিদা মিটিয়ে বাজারেও সবজি বিক্রি করতে পারছি। এটি আমাদের বাড়তি আয়ের পথ খুলে দিয়েছে।”

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম নিয়মিত এই প্রকল্প পরিদর্শন করেন। তিনি নিজে উপস্থিত থেকে চাষিদের খোঁজখবর নেন এবং প্রয়োজনীয় বীজ ও কারিগরি সহযোগিতা নিশ্চিত করেন। কৃষি কর্মকর্তাদের এই নিবিড় তদারকিই সল্লারবিলকে সবজির ভাণ্ডারে পরিণত করেছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলামের  মতে, ৪২ একরের এই সুবিশাল প্রকল্পে বসবাসরত ৪৩০টি পরিবার এখন বিষমুক্ত সবজি উৎপাদনের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হওয়ার পথে। এই উদ্যোগ কেবল পুষ্টির চাহিদাই মেটাচ্ছে না, বরং গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here