নেত্রকোনার হাওড়ে সহস্রাধিক হেক্টর ধান তলিয়ে ক্ষতি

0
নেত্রকোনার হাওড়ে সহস্রাধিক হেক্টর ধান তলিয়ে ক্ষতি

টানা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় নেত্রকোনার হাওড়াঞ্চলে হাজার হাজার হেক্টর বোরো ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন কৃষকরা। তবে এক সপ্তাহ পর রোদের দেখা মেলায় কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে তাদের মধ্যে।

জানা গেছে, গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে জেলার বিস্তীর্ণ হাওড়াঞ্চলে ধানক্ষেত প্লাবিত হয়। অনেক কৃষক পানিতে নেমেই ধান কাটতে বাধ্য হয়েছেন। সোমবার পর্যন্ত হাওড়ের প্রায় ৭৮ দশমিক ৫২ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, শুধুমাত্র বৃষ্টির পানিতেই এ বছর বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকরা। একদিকে শ্রমিক সংকট, অন্যদিকে ধানের কম দাম—সব মিলিয়ে চরম বিপাকে তারা। অনেক কৃষক আত্মীয়-স্বজনের সহায়তায় তলিয়ে যাওয়ার আগেই ধান কাটার চেষ্টা চালাচ্ছেন। সোমবার বৃষ্টির পর রোদ ওঠায় কৃষকরা মাড়াই কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েন।

স্থানীয় কৃষক একদিল মিয়া বলেন, পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। ফলে ধান তলিয়ে গেছে। শ্রমিক সংকট ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে সময়মতো ধান কাটা সম্ভব হয়নি। এখন যা কাটা যাচ্ছে, তা শুকিয়ে কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এ বছর জেলায় ১ লাখ ৮৫ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে সোমবার (৫ মে) পর্যন্ত ৭১ হাজার ৮০১ হেক্টর ধান কাটা হয়েছে। হাওড় এলাকায় কাটা হয়েছে ২৯ হাজার ৩৭১ হেক্টর। ইতোমধ্যে হাওড়ে ১১ হাজার ২৩০ হেক্টর এবং নন-হাওড়সহ পুরো জেলায় ১৮ হাজার ১৭৫ হেক্টর জমির ধান তলিয়ে গেছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (উদ্যান) কৃষিবিদ রাকিবুল হাসান জানান, হাওড়ের ছয় উপজেলায় প্রায় ১০ হাজার ৪২৭ হেক্টর জমির ধান সম্পূর্ণ নষ্ট হয়েছে। এতে প্রায় ৪৮ হাজার ২৭১ মেট্রিক টন ধানের ক্ষতি হয়েছে, যার বাজারমূল্য প্রায় ২৩৬ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের সংখ্যা প্রায় ৬০ থেকে ৬৫ হাজার, এর মধ্যে হাওড়াঞ্চলের প্রায় ৩৮ হাজার কৃষক রয়েছেন।

তিনি আরও জানান, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তায় সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here