ইসরায়েল-লেবানন যুদ্ধবিরতির পর ঘরে ফিরতে শুরু করেছে বাস্তুচ্যুত মানুষ। এরই মধ্যে ইসরায়েলকে হুঁশিয়ারি দিয়েছে হিজবুল্লাহ, যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় ট্রিগারে আঙুল রাখা আছে তাদের। লেবাননের রাজনৈতিক ও সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহ নিয়ন্ত্রিত আল-মানার টেলিভিশনে প্রচারিত ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীটির এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে দেওয়া হয়েছে এমন হুঁশিয়ারি।
বিবৃতিতে হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, তারা শত্রুর বিশ্বাসঘাতকতা ও প্রতারণা প্রতিহত করতে প্রস্তুত। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় ট্রিগারে আঙুল রাখবেন মুজাহিদিনেরা।
এছাড়া লেবাননে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার মধ্যেই কঠোর অবস্থান জানিয়েছে হিজবুল্লাহ। তারা বলেছে, যতদিন লেবাননের মাটিতে ইসরায়েলি বাহিনী থাকবে, ততদিন প্রতিরোধ চালিয়ে যাওয়ার অধিকার তাদের থাকবে। হিজবুল্লাহর এক জ্যেষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, কোনো যুদ্ধবিরতি এমন হতে পারে না যেখানে ইসরায়েলি বাহিনী লেবাননে অবাধে চলাচল করতে পারে। এমন শর্ত গ্রহণযোগ্য নয় যা পরিস্থিতিকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেয়।
সংগঠনটির দাবি, লেবাননের ভূখণ্ডে বিদেশি সেনা থাকা অবস্থায় দেশটির জনগণের প্রতিরোধের অধিকার রয়েছে। অর্থাৎ দখলদার বাহিনী না যাওয়া পর্যন্ত সব ধরনের উপায়ে প্রতিরোধ চালিয়ে যাওয়া বৈধ।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি জানান, লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে আলোচনা করে এই সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে এই ঘোষণায় হিজবুল্লাহর নাম উল্লেখ করা হয়নি।
এদিকে যুদ্ধবিরতির মধ্যেই লেবাননের জাহরানি অঞ্চলের গাজিয়েহ শহরে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৮ জন নিহত হয়েছেন। অনেকেই আহত হয়েছেন এবং কয়েকজন ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছেন বলে জানা গেছে। উদ্ধার কাজ এখনো চলছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোর মধ্যে এটিকে অন্যতম ভয়াবহ হামলা হিসেবে ধরা হচ্ছে। সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল, গার্ডিয়ান, বিবিসি

