দীর্ঘ আট বছরেও শেষ হয়নি মাগুরা রেললাইনের কাজ। দৃশ্যমান কাজ বলতে শুধু ফরিদপুর-মাগুরার সীমান্তে গড়াই নদীর ওপর ব্রিজ নির্মাণ। এ ছাড়া দৃশ্যমান কোনো কাজ চোখে পড়ে না। প্রশাসন বলছে, এ বছরের মধ্যেই রেললাইনের কাজ শেষ হবে।
মাগুরার মানুষের স্বপ্নের রেললাইনের কাজ শুরু হয়েছিল ২০১৮ সালে। তখন এ কাজের উদ্বোধন করেন তৎকালীন রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন। সে সময় প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মধুখালি-মাগুরা প্রায় ২৩ কিলোমিটার রেললাইনের জন্য ১২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। দুই বছর সময়সীমার মধ্যে কাজ সম্পন্নের কথা থাকলেও আট বছর পার হলে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ৫০ শতাংশের বেশি কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
সরেজমিন দেখা গেছে, মধুখালী থেকে কামারখালী পর্যন্ত পুরাতন রেললাইন সংস্কার করা ও কয়েকটি কালভার্ট নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে বেশ আগেই। গড়াই নদীর ওপর রেলসেতু নির্মাণের কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে। কিন্তু মাগুরা অংশে ৮ কিলোমিটার সংযোগ সড়কের জমি অধিগ্রহণের কাজ এখন পর্যন্ত শেষ না হওয়ায় কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। মাগুরা সদর উপজেলার রামনগরে মাগুরা অংশের স্টেশন নির্মাণের কাজ শুধু মাটি ভরাটের মধ্যেই সীমাবদ্ধ।
স্থানীয় রামনগরের বাসিন্দা কিশোর বিশ্বাস বলেন, আমার দেড় বিঘা জমি রেললাইনের মধ্যে পড়েছে। ইতোমধ্যে সরকার কাগজে-কলমে জমি অধিগ্রহণ করে নিয়েছে। এর কিছু অংশের টাকাও আমি পেয়েছি, বাকি টাকা এখনো পাইনি। আমার এলাকার অনেক লোকই আছে যারা এখনো টাকায় পায়নি। আবার অনেকের জমিতে মামলা থাকায় তারা টাকা নিতে পারছেন না। এই সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান করা দরকার।
পার্শ্ববর্তী বেলনগর গ্রামের মনিরুল শিকদার বলেন, এই মাঠে আমাদের বেলনগরের মানুষের জমির পরিমাণ বেশি। এখানে যাদের জমি আছে তাদের অর্ধেক লোক টাকা বুঝে পাননি। তা ছাড়া রেলের রাস্তার কাজ শুরু করতে কোনো কার্যক্রম চোখে পড়েনি। আমরা মনে করি, সরকার যদি ঠিকাদার কোম্পানিগুলোকে জোর তাগাদা দেয় তাহলে এ বছরের মধ্যেই রেললাইনের কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মীর আক্তার হোসেন লিমিটেডের উপসহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ জনি আহম্মেদ বলেন, মধুখালী টু মাগুরা ভায়া কামারখালী রেল প্রজেক্টের মীর আক্তার হোসেন প্রতিষ্ঠান সেতুর কাজ করছে। আমাদের কাজের অগ্রগতি দ্রুতগতিতে চলছে। ইতোমধ্যে মেইন ব্রিজের ৭টি পায়ারের কাজ শেষ হয়েছে। আমাদের বাকি কাজ আগামী জুনের মধ্যে শেষ হবে বলে আশা করছি।
রেললাইনের জমি অধিগ্রহণ ও অন্যান্য কার্যক্রম সম্পর্কে মাগুরা জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বলেন, রেললাইনের কার্যক্রম এখন চলমান। জমি অধিগ্রহণের কাজ প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। কিছু জমির মালিক তাদের মালিকানা জটিলতার কারণে টাকা বুঝে পাননি। আমরা চেষ্টা করছি তাদের সমস্যা দ্রুত সমাধান করে প্রকৃত মালিকের নিকট টাকা বুঝিয়ে দেওয়ার।

