ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের ধস নেমেছে। গত দশ মাসের মধ্যে এবারই এক সপ্তাহে তেলের দাম সবচেয়ে বেশি কমেছে। আজ শুক্রবার লেনদেনের শুরুতে তেলের দাম কিছুটা বাড়লেও পুরো সপ্তাহের হিসেবে ব্রেন্ট ক্রুড ও ডব্লিউটিআই; উভয় বেঞ্চমার্কের দাম প্রায় ১১ থেকে ১২ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় গত মঙ্গলবার দেশ দুটির মধ্যে এই সাময়িক যুদ্ধবিরতি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর থেকেই বাজারে এই নিম্নমুখী প্রবণতা শুরু হয়।
তবে দাম কমলেও সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ পুরোপুরি কাটেনি। সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এসপিএ জানিয়েছে, সাম্প্রতিক হামলায় দেশটির তেল উৎপাদন দৈনিক ৬ লাখ ব্যারেল কমেছে। এর পাশাপাশি হরমুজ প্রণালীতে নৌযান চলাচল এখনও স্বাভাবিকের তুলনায় ১০ শতাংশের নিচে রয়েছে। তেহরান এই জলপথের ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে জাহাজগুলোকে তাদের জলসীমা মেনে চলার হুঁশিয়ারি দিচ্ছে। এমনকি শান্তি চুক্তির অংশ হিসেবে এই প্রণালী দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজগুলোর ওপর মাশুল আরোপের প্রস্তাব দিয়েছে ইরান।
২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরায়েলে বিমান হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই সংঘাতের ছয় সপ্তাহে মধ্যপ্রাচ্যের প্রায় ৫০টি জ্বালানি অবকাঠামো ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জেপি মরগান এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, যুদ্ধের কারণে এই অঞ্চলের দৈনিক ২৪ লাখ ব্যারেল তেল পরিশোধন ক্ষমতা বর্তমানে স্থবির হয়ে আছে। তবে লেবানন সরকার আগামী সপ্তাহে ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে বৈঠকে বসার আগ্রহ প্রকাশ করায় যুদ্ধের উত্তেজনা আরও প্রশমিত হওয়ার আশা করা হচ্ছে। এর ফলে আজ শুক্রবার তেলের দামে কিছুটা স্থিতিশীলতা দেখা গেছে, ব্রেন্ট ক্রুড প্রতি ব্যারেল ৯৬ ডলার ৪৮ সেন্ট এবং ডব্লিউটিআই ৯৮ ডলার ৫২ সেন্টে কেনাবেচা হচ্ছে।
সূত্র: রয়টার্স

