অসময়ের ভারী বৃষ্টিপাতে তিস্তা, ধরলা ও ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় রংপুরসহ আশপাশের এলাকায় ১৩০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, এতে নিম্নাঞ্চলের ফসল তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, তিস্তার ডালিয়া পয়েন্টে রোববার সকাল ৯টায় পানির স্তর ছিল ৫০ দশমিক ৭০ সেন্টিমিটার, যা আগের দিন একই সময়ে ছিল ৫০ দশমিক ৩০ সেন্টিমিটার। অর্থাৎ ২৪ ঘণ্টায় পানি বেড়েছে প্রায় ৪০ সেন্টিমিটার। একইভাবে ধরলা ও ব্রহ্মপুত্র নদেও পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পানি বাড়লেও এখনো বন্যার শঙ্কা নেই।
তিস্তার পানি বাড়ায় রংপুরের গঙ্গাচড়া ও কাউনিয়া উপজেলার চরাঞ্চলে মরিচ, পেঁয়াজ, রসুন, বাদাম, মিষ্টি কুমড়া, ধান ও গমসহ বিভিন্ন ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অনেক কৃষক অপরিপক্ব ধান কাটতে বাধ্য হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন।
এদিকে টানা বৃষ্টিতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। শহরের শ্যামাসুন্দরী খাল খনন না করায় খাল উপচে আশপাশের বাড়িঘর ও সড়কে পানি ঢুকে পড়ছে। নগরীর বিভিন্ন এলাকা—জুম্মাপাড়া, কামারপাড়া, মুন্সিপাড়া ও হনুমানতলাসহ কয়েকটি এলাকায় পানি জমে দুর্ভোগ বেড়েছে। বেশ কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও পানি ঢুকে পড়ায় শিক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছে।
রংপুর আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ মোস্তফিজার রহমান জানিয়েছেন, এই বৃষ্টিপাত আরও চারদিন অব্যাহত থাকতে পারে। তিনি বলেন, এপ্রিল মাসে সাধারণত এ ধরনের ভারী বৃষ্টি দেখা যায় না।

