ফুটবল দুনিয়ার দুই অবিসংবাদিত মহাতারকা লিওনেল মেসি ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ক্যারিয়ারের সায়াহ্নে এসেও এক অবিশ্বাস্য প্রতিযোগিতায় মেতেছেন। আন্তর্জাতিক এবং ক্লাব ফুটবলের ইতিহাসে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে এক হাজার অফিশিয়াল গোলের মাইলফলক স্পর্শ করার লক্ষ্যে প্রতিনিয়ত একে অপরকে তাড়া করে চলছেন এই দুই কিংবদন্তি।
প্রতিটি ম্যাচ এবং প্রতিটি গোল যেন এই মহাকাব্যিক লড়াইয়ের নতুন এক একটি অধ্যায় লিখে চলেছে। সাম্প্রতিক ম্যাচগুলোতে ইন্টার মায়ামির হয়ে মেসির দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর পর্তুগিজ তারকা রোনালদোর ওপর চাপ আরও বেড়ে গেছে।
গত রবিবার মেজর লিগ সকারে নিজেদের নতুন হোম ভেন্যু এনইউ স্টেডিয়ামে পোর্টল্যান্ড টিম্বার্সের মুখোমুখি হয়েছিল ইন্টার মায়ামি। ঘরের মাঠে ২-০ ব্যবধানের সহজ জয় তুলে নেয় ফ্লোরিডার দলটি। ম্যাচের প্রথমার্ধের ৩০ মিনিটে লুইস সুয়ারেজ ও তেলাস্কো সেগোভিয়ার দারুণ এক যৌথ আক্রমণ থেকে বল পেয়ে ম্যাচের প্রথম গোলটি করেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। এর ঠিক এগারো মিনিট পর জার্মান বেরতেরামেকে দিয়ে দলের দ্বিতীয় গোলটি করান মেসি নিজেই। চলতি এমএলএস মৌসুমে এটি মেসির ১৩তম গোল। এই গোলটির মাধ্যমে ফুটবল ইতিহাসে মেসির মোট অফিশিয়াল গোলের সংখ্যা গিয়ে দাঁড়িয়েছে ৯১০-এ। পেশাদার ক্যারিয়ারে ১,১৫৩টি ম্যাচ খেলে এই কীর্তি গড়েছেন তিনি, যার মধ্যে আর্জেন্টিনার হয়ে ১১৬টি, বার্সেলোনার জার্সিতে ৬৭২টি, পিএসজির হয়ে ৩২টি এবং ইন্টার মায়ামির হয়ে ৯০টি গোল রয়েছে।
হাজার হাজার মাইল দূরে থাকা চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো অবশ্য এখনও এই লড়াইয়ে বেশ কিছুটা এগিয়ে আছেন। আন্তর্জাতিক ও ক্লাব ফুটবল মিলিয়ে সর্বোচ্চ ৯৭২টি অফিশিয়াল গোল নিয়ে সবার ওপরে অবস্থান করছেন সিআরসেভেন। ক্যারিয়ারের সিংহভাগ গোল তিনি করেছেন রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে, যেখানে তার গোলসংখ্যা ৪৫১টি। এ ছাড়া পর্তুগাল জাতীয় দলের হয়ে ১৪৩টি, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে ১৪৫টি, জুভেন্টাসে ১০১টি, স্পোর্টিং সিপিতে ৫টি এবং বর্তমান ক্লাব আল-নাসরের হয়ে ১২৬টি গোল করেছেন তিনি। তবে মেসির চেয়ে ৬১ গোলে এগিয়ে থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা হতাশাজনক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন এই পর্তুগিজ ফরোয়ার্ড।
গেল ১৬ মে এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টুর ফাইনালে গাম্বা ওসাকার কাছে ১-০ ব্যবধানে হেরে বড় এক ধাক্কা খেয়েছে রোনালদোর দল আল-নাসর। শিরোপাহীন মৌসুম কাটানোর শঙ্কায় থাকা রোনালদোর সামনে এখন শেষ সুযোগ আগামী ২১ মে সৌদি লিগের শেষ ম্যাচে দামাক ক্লাবকে পরাজিত করা। অন্যদিকে ইন্টার মায়ামি আগামী ২৪ মে বিশ্বকাপের বিরতিতে যাওয়ার আগে ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের মুখোমুখি হবে।
ফুটবলপ্রেমীদের চোখ এখন আগামী ১১ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপের দিকে। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো এবং কানাডায় যৌথভাবে আয়োজিত এই টুর্নামেন্টটি হতে যাচ্ছে দুই কিংবদন্তির ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ এবং সম্ভবত শেষ বিশ্বকাপ। গ্রুপ ‘কে’-তে থাকা পর্তুগাল ১৭ জুন কঙ্গোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে তাদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে, যেখানে তাদের বাকি দুই প্রতিপক্ষ উজবেকিস্তান ও কলম্বিয়া। অন্যদিকে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা খেলবে গ্রুপ ‘জে’-তে, যেখানে ১৬ জুন কানসাস সিটিতে আলজেরিয়ার বিরুদ্ধে মাঠে নামবে আলবিসেলেস্তেরা। এরপর গ্রুপ পর্বে তারা মুখোমুখি হবে অস্ট্রিয়া ও জর্ডানের।
ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপে এসে এই দুই ফুটবল সম্রাট নিজেদের গোলসংখ্যাকে কোন উচ্চতায় নিয়ে যান এবং কে প্রথমে ১,০০০ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করেন, তা দেখার অপেক্ষায় এখন পুরো বিশ্ব।
সূত্র: গোল ডটকম

