সংখ্যাটা দেখলে চমকে যেতে হয়। ২০২৬ সালের মার্চের শেষে চীনের মোট স্থাপিত বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা দাঁড়িয়েছে ৩৯৬ কোটি কিলোওয়াটে। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে ১৫ দশমিক ৫ শতাংশ। চীনের জাতীয় জ্বালানি প্রশাসন এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। সিনহুয়া বার্তাসংস্থা এই খবর প্রকাশ করেছে।
যন্ত্রপাতি ব্যবহারের সময় কমল, কিন্তু সক্ষমতা বাড়ল
এই প্রবৃদ্ধির নেতৃত্বে রয়েছে সৌরশক্তি। সৌর বিদ্যুতের স্থাপিত সক্ষমতা ৩১ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ১২৪ কোটি কিলোওয়াটে পৌঁছেছে। বায়ু বিদ্যুতেও পিছিয়ে নেই, ২২ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ৬৬ কোটি কিলোওয়াটে দাঁড়িয়েছে। তবে প্রথম প্রান্তিকে বিদ্যুৎ উৎপাদন যন্ত্রপাতির গড় ব্যবহার সময় ছিল ৭০৩ ঘণ্টা, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ৬৬ ঘণ্টা কম। এর মানে হলো, সক্ষমতা যোগ হচ্ছে চাহিদার চেয়ে দ্রুত গতিতে।
শিল্পনীতির হাতিয়ার হিসেবে বিদ্যুৎ অবকাঠামো ব্যবহার করছে চীন
চীন বিদ্যুৎ অবকাঠামোকে শিল্পনীতির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা থাকলে কারখানা চালানো, যানবাহন বিদ্যুতায়ন, এআই অবকাঠামো পরিচালনা এবং জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরশীলতা কমানো সহজ হয়। ব্লুমবার্গ ও রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, চীনের এ ধরণের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ইতিমধ্যেই জীবাশ্ম জ্বালানিভিত্তিক সক্ষমতাকে ছাড়িয়ে গেছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের চেয়ে অনেক দ্রুত এগোচ্ছে চীন
যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বিদ্যুৎ গ্রিড তুলনামূলকভাবে পরিপক্ব এবং সেখানে চাহিদার প্রবৃদ্ধি ধীর। অন্যদিকে চীন শিল্প সম্প্রসারণ ও বিদ্যুতায়নের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দ্রুতগতিতে সক্ষমতা যোগ করছে। এআই, সেমিকন্ডাক্টর ও উচ্চপ্রযুক্তি উৎপাদনের মতো শক্তিনির্ভর খাতগুলোকে সহায়তা দিতে চীন এই বিশাল বিদ্যুৎ ভিত্তি গড়ে তুলছে।
সূত্র: সিনহুয়া, ব্লুমবার্গ, রয়টার্স, খালিজ টাইমস

