সাশ্রয়ী ড্রোনে নিখুঁত যুদ্ধের নতুন ম্যাজিশিয়ান ইরান

0
সাশ্রয়ী ড্রোনে নিখুঁত যুদ্ধের নতুন ম্যাজিশিয়ান ইরান

যুদ্ধক্ষেত্রে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে ইরানের তৈরি স্বল্পমূল্যের ড্রোন। ইউক্রেন থেকে শুরু করে মধ্যপ্রাচ্য; সবখানেই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে এই প্রযুক্তি। বিশেষ করে ইরানের তৈরি শাহেদ ড্রোনগুলো এখন ‘গরিবের ক্রুজ মিসাইল’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। 

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি থেকে শুরু করে ইসরায়েল অভিমুখে ইরানের হাজার হাজার ড্রোন নিক্ষেপের ঘটনা এটিই প্রমাণ করে যে, আধুনিক সমরাস্ত্রের ধারণা দ্রুত বদলে যাচ্ছে। এক সময় সামরিক শক্তি বলতে বিশাল সেনাবাহিনী বা ট্যাংক বহরকে বোঝানো হতো, কিন্তু স্নায়ুযুদ্ধের পর থেকে পশ্চিমা দেশগুলো নিখুঁত নিশানার ওপর জোর দিয়ে কম সংখ্যক কিন্তু অত্যন্ত শক্তিশালী সমরাস্ত্র ব্যবহারের দিকে ঝুঁকেছিল। ইরান এখন সেই ধারায় পরিবর্তন এনেছে এবং তারা বিপুল পরিমাণ ড্রোন ব্যবহারের মাধ্যমে প্রতিপক্ষের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে বিভ্রান্ত ও পর্যুদস্ত করে তুলছে।

গবেষক মাইকেল হোরোভিটজ এবং লরেন কানের মতে, বিশ্ব এখন ‘প্রিসাইজ মাস’ বা নিখুঁত গণ-আক্রমণের যুগে প্রবেশ করেছে। ড্রোনের বিবর্তন এখন এতটাই বৈচিত্র্যময় যে, আমাজনে পাওয়া শখের ক্যামেরা ড্রোন থেকে শুরু করে আমেরিকার শক্তিশালী প্রিডেটর সিস্টেম; সবই এখন একই সংজ্ঞায় পড়ে। 

তবে ইরানের ক্ষেত্রে সবচেয়ে কার্যকর হয়ে উঠেছে তাদের ‘ওয়ান-ওয়ে অ্যাটাক ড্রোন’ (আত্মঘাতী)। এগুলো বিমানের মতো ফিরে আসার জন্য তৈরি করা হয়নি, বরং এগুলো সরাসরি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনে নিজেকে ধ্বংস করে ফেলে। বাণিজ্যিকভাবে সহজলভ্য যন্ত্রাংশ, উন্নত জিপিএস গাইডেন্স এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সমন্বয়ে ইরান ও তাদের মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো এখন অত্যন্ত নিখুঁতভাবে দূরপাল্লার লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম হচ্ছে। 

বিশেষ করে ভিডিও গেমের মতো ইন্টারফেস সমৃদ্ধ এফপিভি ড্রোনগুলো মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই প্রযুক্তি এখন কেবল শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলোর হাতে সীমাবদ্ধ নেই বরং এর সহজলভ্যতা যুদ্ধের ময়দানকে সাধারণের জন্য উন্মুক্ত বা ডেমোক্রেটাইজড করে দিয়েছে, যেখানে অল্প পুঁজিতেই বড় কোনো পরাশক্তিকে নাকাল করা সম্ভব হচ্ছে।

সূত্র: এশিয়া টাইমস

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here