সাগরে মাছ নেই, লবণের দাম নেই দিশেহারা কুতুবদিয়ার মানুষ

0
সাগরে মাছ নেই, লবণের দাম নেই দিশেহারা কুতুবদিয়ার মানুষ

সাগরে মাছ ও লবণের ন্যায্যমূল্য না পেয়ে কুতুবদিয়ার মানুষ দিশেহারা। সাধারণত এই দ্বীপের প্রধান গুরুত্বপূর্ণ ওই দুটি পেশার মানুষেরাই কুতুবদিয়ার অর্থনীতিকে সচল রাখে। সম্প্রতি ওই দুটি পেশায় এখন বেহাল দশা। ফলে, কুতুবদিয়ার মানুষের বেশিরভাগ অভাব-অনটনে দিন কাটছেন। নেই আয়, তারমধ্য ইরান-আমেরিকার যুদ্ধের কারণে তেলের সংকটে কৃষি কাজেও প্রভাব পড়ছে। সব মিলিয়ে কুতুবদিয়ার মানুষ কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন। 

জেলে ইসমাইল, আব্দুল করিম, গিয়াস উদ্দিন ও সলিমুল্লাহ সহ অনেকেই জানান, সাগরে আগের মতো মাছ পাওয়া যায় না। অল্পস্বল্প পেলেও জলদস্যুরা সাগরের মাঝপথে লুটপাট করে। সম্প্রতি সময়ে সাগরে জলদস্যুদের রাজত্ব চলছে। তাদের ভয় ও তেল সংকটের কারণে অনেকেই আপাতত সাগরে মাছ শিকার করছে না। সাগরে জলদস্যু নির্মূল ও জেলেদের নিরাপত্তায় সরকারকে প্রয়োজনী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবী করেন। 

এদিকে, আগামী ১৫ এপ্রিল থেকে ৫৮ দিনের জন্য সাগরে মাছ ধরা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে সরকার। ওই সময়ে কুতুবদিয়ার জেলেরা তাদের সংসার নিয়ে বিপাকে পড়ার আশংকা রয়েছে। 

লবণ চাষী ছৈয়দ আলম, আহমুদুল্লাহ, শাহ আলম, শফি উল্লাহসহ অনেকেই জানান, তেল সংকট ও লবণের ন্যায্যমূল্য না থাকায় তাদের কঠিন সময় যাচ্ছে। পর্যাপ্ত পরিমাণে লবণ উৎপাদন হলেও তা দিয়ে পরিবারের ব্যয় বহন করতে পারছে না। মূল্যহীন লবণ এখন চাষীদের বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এত সমস্যার মধ্যেও কালবৈশাখী ঝড়ে থমকে গেছে লবণ উৎপাদন। চাষীদের এ সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তাদের ন্যায্যমূল্য ফিরে পাওয়ার দাবি করেন। 

কৃষক নুরুচ্ছবি, নেজাম উদ্দিন, জাহেদ সহ অনেকেই জানান, ধানক্ষেতে পর্যাপ্ত পানির সংকট ছিলো। তাই, সেচ পাম্পের মাধ্যমে পানির ব্যবস্থা করতে চেষ্টা চালিয়েও তেল সংকটের কারণে তাও সম্ভব হয়নি। হঠাৎ কালবৈশাখী ঝড়ে ধানক্ষেতে পানির চাহিদা কিছুটা সুবিধা পেলেও প্রচন্ড বাতাসে অধিকাংশ ধানক্ষেত নষ্ট হয়েছে। তবে, এবারে ধান চাষে কৃষকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশংকা রয়েছে। 

এদিকে, সাম্প্রতিক সময়ে জেলেদের নিরাপত্তায় সাগরে জলদস্যু নির্মূলে নৌ-টহল জোরদার ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নৌ-ঘাটি স্থাপনের জন্য বাংলাদেশ নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান ও বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. জিয়াউল হকের সঙ্গে আলোচনা করেছেন স্থানীয় সাংসদ সদস্য আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ। 

এ ছাড়াও তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ অধিবেশনে কুতুবদিয়া-মহেশখালীর চাষীদের বাঁচাতে লবণের ন্যায্যমূল্যের দাবি করে প্রধানমন্ত্রী ও বানিজ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here