কুষ্টিয়ায় চার মাস বয়সী শিশু সন্তানকে নদীতে ছুড়ে ফেলে নিজেও ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়েছেন যমুনা খাতুন নামে এক নারী। নৌকার মাঝিরা তাকে জীবিত উদ্ধার করতে পারলেও নিখোঁজ রয়েছে তার চার মাসের ছেলে শিশু সাইফ ওসমান হাদি।
শুক্রবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে সদর উপজেলার গড়াই নদীর হরিপুর সেতু ওপর এ ঘটনা ঘটে। যমুনা খাতুন কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হাটশ হরিপুর গ্রামের আব্দুল আলীমের স্ত্রী।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানায়, বিকেলে সেতু ওপর থেকে এক নারী তার শিশু সন্তানকে নদীতে ফেলে দেয়। পরে সেও নদীতে ঝাঁপ দেন। এসময় নদীতে অবস্থানরত কয়েকজন নৌকার মাঝি ওই নারীকে উদ্ধার করে তীরে নিয়ে আসেন। পরে তারা শিশু হাদিকে খোঁজাখুঁজি করলেও তাকে পাওয়া যায়নি। খবর পেয়ে পুলিশ এসে ওই নারীকে থানায় নিয়ে যায়।
শিশুটির বাবা আব্দুল আলীম জানান, তার স্ত্রী যমুনা খাতুন সন্তানকে নিয়ে কুমারখালী উপজেলার সুলতানপুর বেলতলা এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে অবস্থান করছিলেন। শুক্রবার বিকেলে তিনি সেখান থেকে এসে হরিপুর সেতুর ওপর দাঁড়িয়ে প্রথমে শিশু হাদিকে নদীতে ছুড়ে ফেলেন। পরে নিজেও নদীতে ঝাঁপ দেন।
তিনি দাবি করেন, তার স্ত্রীর মানসিক সমস্যা রয়েছে। সম্প্রতি শিশু হাদি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে বাড়িতে এনে চিকিৎসা করানোর বিষয়ে স্ত্রী ও শাশুড়ির সঙ্গে পারিবারিক বিরোধ চলছিল। এর পরেই এ ঘটনা ঘটে।
কুষ্টিয়া ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার আরশেদ আলী জানান, স্থানীয়দের ফোন পেয়ে তারা নদীপাড়ে গিয়েছিলেন। সেখানে স্থানীয়দের সাথে নিয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা শিশুটির সন্ধানে নদীতে তল্লাশি চালাচ্ছে। খবর পেয়ে এরই মধ্যে খুলনা থেকে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযানে যোগ দেওয়ার জন্য রওনা হয়েছে।
কুষ্টিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কবির হোসেন মাতুব্বর জানান, নদী থেকে উদ্ধার হওয়ার পর ওই নারীকে থানায় নেওয়া হয়েছে। তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন এবং কান্নাকাটি করছেন। এ কারণে প্রাথমিকভাবে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহে কিছুটা জটিলতা তৈরি হয়েছে। এই ঘটনায় তদন্ত চলছে। বিস্তারিত পরে জানানো যাবে।

