শ্রীপুরে আশানুরূপ ফলন নেই লিচুর, দুশ্চিন্তায় চাষিরা

0
শ্রীপুরে আশানুরূপ ফলন নেই লিচুর, দুশ্চিন্তায় চাষিরা

বাংলা নতুন বছরকে স্বাগত জানিয়ে পহেলা বৈশাখ, হালখাতা ও বৈশাখী মেলার আয়োজনের সমাপ্তি ঘটিয়ে আসছে মধুমাস ‘জ্যৈষ্ঠ’। এ মধুমাসে আম, জাম, কাঁঠাল, লিচু, আনারস, তরমুজ, লটকনসহ বাজারে নানা ধরনের সুস্বাদু ও রসালো ফল প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়। ফল পেকে রসে টইটম্বুর থাকে এবং মিষ্টি গন্ধে চারপাশ ম-ম করে বলেই জ্যৈষ্ঠকে মধুমাস বলা হয়।

মধুমাসে গাজীপুরের শ্রীপুরে উৎপাদিত লিচুর দেশজুড়ে বেশ নামডাক রয়েছে। স্বাদের দিক দিয়ে ভিন্ন ও রসালো হওয়ায় শ্রীপুরের লিচুর চাহিদাও বাজারে অনেক বেশি। শ্রীপুরে চায়না-৩, বোম্বাই, পাতি, কদমীসহ বিভিন্ন জাতের লিচুর চাষ হয়। তবে এ উপজেলায় চলতি মৌসুমে লিচুর ফলন আশানুরূপ না হওয়ায় দুশ্চিন্তায় রয়েছেন স্থানীয় লিচু চাষিরা।

স্থানীয় লিচু চাষিদের ভাষ্য, শ্রীপুর পৌরসভার কেওয়া, টেপিরবাড়ি, তেলিহাটি ও উজিলাবসহ উপজেলার বিভিন্ন লিচু বাগানে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার উৎপাদন অনেক কম হয়েছে। বৈরী আবহাওয়া, অতিরিক্ত গরম ও অনিয়মিত বৃষ্টির কারণে গাছেই লিচুর মুকুল ঝরে পড়েছে। এতে উৎপাদন কম হয়েছে।

উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, এবার শ্রীপুর উপজেলায় প্রায় ৭২৮ হেক্টর জমিতে লিচুর চাষ করা হয়েছে। চলতি বছর লিচু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ৪ হাজার মেট্রিক টন।

উজিলাব গ্রামের লিচু চাষি জহিরুল ইসলাম। তাঁর ৬ বিঘা জমিতে লিচুর বাগান রয়েছে। জহিরুলের ভাষ্য, এবার লিচুর মৌসুমের শুরুতে পরিবেশ অনুকূলে ছিল না। অতিরিক্ত তাপদাহ ও অনিয়মিত আবহাওয়ার কারণে মুকুলেই নষ্ট হয়ে গেছে অনেক লিচু। অনিয়মিত বৃষ্টির কারণেও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তারা।

কেওয়া গ্রামের লিচু চাষি আমান উল্লাহ জানান, বিগত বছরের তুলনায় এবারের লিচুর ফলন আশানুরূপ হয়নি। এর জন্য দ্রুত অপরিকল্পিত শিল্পায়নের ফলে পরিবেশ বিপর্যয়কে দায়ী করছেন তিনি। এবারের ফলনে উৎপাদন খরচ ওঠানো নিয়েও শঙ্কায় রয়েছেন।

তবে অন্যান্য কৃষকরা বলছেন, পুরোদমে শ্রীপুরের লিচু বাজারে আসতে আরও ২ থেকে ৩ সপ্তাহ সময় লাগবে। ফলন কম হলেও বাজারে যদি সঠিক দাম পাওয়া যায়, তাহলে ক্ষতি অনেকটা পুষিয়ে আনা সম্ভব হবে।

এ বিষয়ে শ্রীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমাইয়া সুলতানা বন্যা বলেন, প্রথম থেকেই উপজেলা কৃষি অফিস থেকে বিভিন্ন ধরনের সহযোগিতা ও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে উপজেলার লিচু চাষিদের। তবে লিচুর ফলন ঢালাওভাবে খারাপ হয়েছে তা নয়। পরিবেশগত কারণে কিছু বাগানে ফলন কম হয়েছে, আবার কোনো কোনো বাগানে বাম্পার ফলনও হয়েছে। লিচুর ফলন বাড়াতে চাষিদের সরকারি সহায়তা ও পরামর্শ অব্যাহত থাকবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here