শেরপুর সীমান্তে বালু দস্যুদের হামলায় আহত দুই বনরক্ষী

0
শেরপুর সীমান্তে বালু দস্যুদের হামলায় আহত দুই বনরক্ষী

শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার গারো পাহাড় এলাকায় বালু দস্যুদের হামলায় এক বিট কর্মকর্তাসহ দুই বনরক্ষী গুরুতর আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (৩ জুন) রাতে আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে ঝিনাইগাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

আহতরা হলেন- গজনী বিট কর্মকর্তা সালেহীন নেওয়াজ খান এবং ফরেস্ট গার্ড জিয়াউল হক।

রাংটিয়া রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক এস বি তানভীর আহমেদ ইমন জানান, গত ৩ জুন ভোরে গজনী বন এলাকা থেকে অবৈধভাবে উত্তোলিত বালু পরিবহনের সময় একটি ট্রলি বালুসহ চালককে আটক করে ঝিনাইগাতী থানায় সোপর্দ করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করে। মামলার সাক্ষী ছিলেন আহত ওই দুই বনরক্ষী।

তিনি আরও জানান, মামলার পর থেকেই অভিযুক্তরা বন বিভাগের কর্মকর্তাদের বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে আসছিল। এতে গজনী বিটের বনরক্ষীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিট কর্মকর্তা সালেহীন নেওয়াজ খান ও ফরেস্ট গার্ড জিয়াউল হক নিয়মিত টহলে বের হন। এ সময় গজনী বনের নকশী এলাকায় ফরহাদ, রোমান ও জামান মোল্লার নেতৃত্বে ২০-২৫ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলায় দুই বনরক্ষী গুরুতর আহত হন। ঘটনার সময় তারা সরকারি দায়িত্ব পালন করছিলেন।

তাদের চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে উদ্ধার করে ঝিনাইগাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। খবর পেয়ে বালিজুড়ি রেঞ্জ কর্মকর্তা সুমন মিয়াসহ বন বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তারা সেখানে ছুটে যান। পরে আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

এদিকে বন কর্মকর্তাদের ওপর হামলার খবর পেয়ে মধ্যরাতে শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন জেলা সদর হাসপাতালে গিয়ে আহতদের খোঁজখবর নেন। তিনি উপস্থিত বন কর্মকর্তাদের আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন।

জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, এ ঘটনায় মামলার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here