রাঙামাটিতে গৃহবধূ আয়েশা হত্যা মামলার ২ আসামি গ্রেফতার

0
রাঙামাটিতে গৃহবধূ আয়েশা হত্যা মামলার ২ আসামি গ্রেফতার

মাত্র তিনদের মাথায় রাঙামাটির বরকলে গৃহবধু হত্যাকান্ডের মুল অভিযুক্তদের গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তারা হলেন মো. সোহাগ (১৭) ও মো. ওমর আলী (১৯)। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় রাঙামাটি পুলিশ সুপার কার্যালয়ে স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীদের এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান জেলা পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব। একই সাথে জব্দ করা হয় হত্যাকান্ডে ব্যবহারিত আলামত ও নগদ টাকা।

পুলিশ জানায়, গত রবিবার রাত ৮টার দিকে রাঙামাটির বরকল উপজেলার ১নং শুভলং ইউনিয়নের বরুনাছড়ি ৯নং ওয়ার্ডের ইসলামপুর এলাকার বাসিন্দা রফিজুল হকের সহধর্মীনি আয়েশা বেগমের বাড়িতে বেড়াতে আসে অভিযুক্ত আসামি সোহাগ ও ওমর আলী। পরে টাকা চুরি পরিকল্পনা করেন আসামিরা। টাকা চুরির জন্য আলমারি ভাঙ্গতে দেখে ফেলায় আয়েশা বেগমকে হাতুরি ও ইট দিয়ে মাথায় আঘাত করে ভাতিজা ও নাতি। এক পর্যায়ে আয়েশা বেগম মাটিতে লটিয়ে পরলে ঘরের আলমারি ভেঙে নগদ তিন লাখ টাকা নিয়ে পালিয়ে যায় অভিযুক্ত আসামিরা। 

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ ও হত্যাকাণ্ডে ব্যবহারিত ইট ও হাতুরি উদ্ধার করে। এ ঘটনার পর নিহতের ছেলে মো. আশরাফ আলী (২৮) বরকল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে সুরতহাল ও ময়নাতদন্তের রিপোর্টের ভিত্তিতে রাঙামাটি জেলার পুলিশ সুপারের নির্দেশে মামলার গোপনে তদন্তকারী শুরু করেন শুভলং পুলিশ ফাঁড়ির এসআই মো. সাব্বির খান। 

পরে পুলিশ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন মামলার সঙ্গে জড়িত সন্দেহভাজন একই উপজেলার বরুনাছড়ি ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইসলামপুরের বাসিন্দা মো. ফজল আলীর ছেলে মো. সোহাগ ও মো. মোজাম্মেলের ছেলে ওমর আলীকে গ্রেফতার করেন। অভিযুক্ত আসামীদের মধ্যে একজন নিহত আয়েশ বেগমের আপন ভাইয়ের ছেলে রয়েছে। পরে জন দুর্স্পকের নাতি। 

রাঙামাটি জেলা পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব বলেন, গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামীরা দোষ স্বীকার করেন। একই সাথে লুট করা টাকার সন্ধান দেন। পরে তাদের তথ্যের ভিত্তিতে অভিযুক্ত মো. সোহাগের বসতঘরের পাটাতনের ওপর সাদা জালের মধ্যে মোড়ানো একটি পলিথিন  এক লাখ ৬হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। পরে অভিযুক্ত মো. ওমর আলীর বসতঘরের দক্ষিণ পাশে করলা বাগানের নিচে মাটিতে লুকিয়ে রাখা একটি প্লাস্টিকের বাটির ভেতর কালো পলিথিনে মোড়ানো ৯৩ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। 

অভিযানে সর্বমোট এক লাখ ৯৯ হাজার টাকা লুণ্ঠিত অর্থ উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি এক লাখ ৭হাজার টাকা আসামীরা খরচ করে ফেলেছে বলে জানান।  আসামীদের গ্রেফতারের পর আদালতে হাজির করে মামলার পরবর্তী কার্যক্রম শুরু করা হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here