রংপুরে পাখির অভয়ারণ্য ধ্বংস, ছয় বছরেও বিচার হয়নি

0
রংপুরে পাখির অভয়ারণ্য ধ্বংস, ছয় বছরেও বিচার হয়নি

রংপুর নগরীর প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত জেলা পরিষদ ভবন চত্বর। এক সময় এই চত্বর ছিল ঘন সবুজে ঘেরা। দীর্ঘ বছরের পুরোনো শতাধিক বড় বৃক্ষ আর অসংখ্য পাখির কোলাহলে মুখর থাকত পুরো এলাকা। পরিষদের প্রবেশপথের পশ্চিম পাশে গড়ে উঠেছিল পাখির এক প্রাকৃতিক অভয়াশ্রম। সড়কের ধারে টানানো সাইনবোর্ডে স্পষ্ট লেখা ছিল ‘পাখির অভয়াশ্রম’। বিকেল হলেই দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসতেন পাখির ঝাঁক দেখতে।

কিন্তু ছয় বছর আগে একটি সিদ্ধান্তে সেই অভয়ারণ্য কার্যত বিলীন হয়ে যায়। জেলা পরিষদের তৎকালীন চেয়ারম্যান গাছ কেটে এই অভয়ারণ্যকে ধ্বংস করে ফেলেন। কারণ ছিল জেলা পরিষদের সামনে একটি ম্যুরাল নির্মাণ। সড়ক থেকে যাতে ম্যুরালটি স্পষ্ট দেখা যায়, এই যুক্তিতে তিনি শতাধিক বছরের পুরোনো বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কেটে ফেলেন।

পরিবেশকর্মী ও সচেতন নাগরিকদের বলেন, শতাধিক প্রাচীন বৃক্ষ নিধনের মধ্য দিয়ে পাখির নিরাপদ আবাসস্থল ধ্বংস করা হয়েছে। পরে চব্বিশের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের সময় ভেঙে ফেলা হয় ম্যুরালটি। তবে শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ছায়াঘেরা পরিবেশ আর ফেরেনি। পাখির কোলাহল এখন আর শোনা যায় না। 

কবি বাদল রহমান জানান, পাখির অভয়ারণ্য দেখতে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসতেন। বিকেল হলে পাখির কলতান এবং দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর ছিল জেলাপরিষদ চত্বর। কেটে ফেলা এসব গাছের বয়স শত বছর। ওই সব গাছ কাটায় রংপুরে পাখির আবাসন সংকট মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। তিনি বলেন, ‘ঐতিহ্যবাহী পাখির এই অভয়ারণ্যটি নষ্ট করার কারণে তৎকালীন চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা হওয়া উচিত।’  

রংপুর জেলা সুজনের সভাপতি ফখরুল আনাম বেঞ্জু বলেন, ‘আমরা সে সময় প্রতিবাদ করেছিলাম। কিন্তু আমাদের প্রতিবাদ কাজে আসেনি। গাছ কেটে ফেলায় এখানে পাখিরা আর আসে না। তিনি জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।’ 

রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. তুহিন ওয়াদুদ বলেছেন, ‘শতবর্ষী গাছ কেটে পাখিদের বিপদে ফেলা হয়েছে। গাছ কাটার সময়ে আমরা জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছিলাম। আজও জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।’

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here