পাওলো দিবালা ছিলেন আর্জেন্টিনার ২০২২ বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য। কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালে টাইব্রেকারে গোলও করেছিলেন তিনি। তবে পুরো টুর্নামেন্টে খুব বেশি সুযোগ পাননি এই ফরোয়ার্ড। সেমিফাইনাল ও ফাইনাল মিলিয়ে মাঠে ছিলেন মাত্র ১৭ মিনিট।
তবুও বিশ্বকাপজয়ী দলের অংশ হওয়া ছিল তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় অর্জন। কিন্তু ২০২৬ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ঘোষিত আর্জেন্টিনার প্রাথমিক ৫৫ সদস্যের দলেও জায়গা হয়নি দিবালার। ফলে এবার বিশ্বকাপে তাঁর অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বেড়ে গেছে।
দিবালার বাদ পড়া অনেক ভক্তকে হতাশ করলেও বিষয়টি পুরোপুরি অপ্রত্যাশিত নয়। প্রতিভাবান ফুটবলার হিসেবে তাঁর সুনাম থাকলেও দীর্ঘদিন ধরেই ফিটনেস সমস্যায় ভুগছেন তিনি। বিশেষ করে পেশির চোটের কারণে নিয়মিত খেলতে না পারা তাঁর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি প্রায় এক বছরের বেশি সময় ধরে দিবালাকে জাতীয় দলে ডাকেননি। সবশেষ ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে আর্জেন্টিনার হয়ে খেলেছিলেন তিনি। সম্প্রতি এএস রোমা’র হয়ে পুরো ৯০ মিনিট খেললেও সেটি স্কালোনির আস্থা ফেরানোর জন্য যথেষ্ট হয়নি। এর আগে ২০২৪ কোপা আমেরিকার দলেও জায়গা পাননি দিবালা।
ক্লাব ফুটবলেও নিয়মিত খেলতে না পারা তাঁর দলে না থাকার আরেকটি কারণ। চলতি মৌসুমে ইনজুরির কারণে বারবার মাঠের বাইরে থাকতে হয়েছে তাঁকে। রোমার হয়ে পুরো মৌসুমে মাত্র ছয় ম্যাচে সম্পূর্ণ সময় খেলেছেন দিবালা।
স্কালোনির কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গিও দিবালার বিপক্ষে গেছে। আর্জেন্টিনা কোচ দ্রুতগতির আক্রমণ, উচ্চমাত্রার প্রেসিং এবং ডিফেন্সিভ ওয়ার্করেটকে বেশি গুরুত্ব দেন। সৃষ্টিশীল খেলোয়াড় হলেও অফ-দ্য-বলে দিবালার গতি ও প্রেসিংয়ের ধারাবাহিকতা তুলনামূলক কম। ফলে বর্তমান পরিকল্পনায় তাঁকে খুব একটা মানিয়ে নিতে পারছেন না স্কালোনি।
এ ছাড়া আর্জেন্টিনা এখন নতুন প্রজন্মের দিকে ঝুঁকছে। লিওনেল মেসি যুগের শেষভাগে এসে দলটি তরুণ ও গতিময় ফুটবলারদের বেশি সুযোগ দিচ্ছে। আক্রমণভাগে একাধিক বিকল্প থাকায় দিবালাকে নিয়ে আলাদা ঝুঁকি নেওয়ার প্রয়োজনও দেখছেন না স্কালোনি।
২০১৫ সালে জাতীয় দলে অভিষেকের পর এখন পর্যন্ত আর্জেন্টিনার হয়ে ৪০ ম্যাচ খেলেছেন দিবালা, গোল করেছেন মাত্র চারটি।

