মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরান ও ইসরায়েল থেকে যেকোনও একটি পক্ষকে বেছে নিতে উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি।
তিনি বলেছেন, সাম্প্রতিক যুদ্ধ প্রমাণ করেছে যে, ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করাই উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য লাভজনক হবে।
মঙ্গলবার তেল আবিবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে হাকাবি বলেন, “একটি পক্ষ বেছে নিন। আপনারাই সিদ্ধান্ত নিন- আপনারা কোন পক্ষ বেছে নেবেন?”
তিনি দাবি করেন, উপসাগরীয় দেশগুলো এখন বুঝতে পেরেছে যে, তাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে- তারা ইরানের হামলার ঝুঁকিতে বেশি, নাকি ইসরায়েলের।
তার ভাষায়, “তারা চারপাশে তাকিয়ে বলতে পারবে, ইসরায়েল আমাদের সাহায্য করেছে, কিন্তু ইরান আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে।”
যুক্তরাষ্ট্রের এই কূটনীতিক আরও বলেন, “এই যুদ্ধের শিক্ষা হলো-ইসরায়েল আপনাদের স্বাভাবিক শত্রু নয়। ইসরায়েল আপনাদের ধ্বংস করতে চায় না, আপনাদের ভূখণ্ড দখলেরও চেষ্টা করছে না। বেসামরিক এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ছে কে? ইরান।”
বক্তব্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) প্রশংসাও করেন হাকাবি। তিনি বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত হচ্ছে এমন একটি উদাহরণ, যেখানে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্কের সুফল দেখা গেছে।
হাকাবি দাবি করেন, যুদ্ধের সময় ইসরায়েল আমিরাতকে সহায়তা দিতে সেখানে আয়রন ডোম আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং তা পরিচালনার জন্য সামরিক সদস্য পাঠিয়েছে।
এর আগে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন এক প্রতিবেদনে জানায়, ইরানের সঙ্গে সংঘাত চলাকালে ইসরায়েল গোপনে আমিরাতে একটি আয়রন ডোম প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও কয়েক ডজন সেনা মোতায়েন করেছিল। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত এক ইসরায়েলি সূত্রের বরাতে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, যুদ্ধ চলাকালে ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) ছয়টি দেশকেই লক্ষ্যবস্তু করেছিল। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর একটি ছিল আমিরাত।
বিশ্লেষকদের মতে, মাইক হাকাবির এই বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যে নতুন কূটনৈতিক মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষ করে ইরান ও ইসরায়েলের সংঘাতের পর উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চাপ আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সূত্র: সিএনএন

