মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধির মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক লিখিত বার্তায় তিনি বলেন, সামরিক ব্যর্থতা পুষিয়ে নিতে এই দুই দেশ ইরানকে ‘হাঁটু গেড়ে বসতে’ ( আত্মসমর্পণে) বাধ্য করতে চায়। একই সঙ্গে তিনি দেশের নাগরিকদের ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান জানান।
জাতীয় আইনসভা প্রতিষ্ঠার বার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া ওই বার্তায় খামেনি বলেন, যুদ্ধ, অর্থনৈতিক চাপ, রাজনৈতিক অবরোধ ও প্রচারণার মাধ্যমে ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। তার ভাষায়, শত্রুপক্ষের পরিকল্পনা হলো অভ্যন্তরীণ বিভাজন সৃষ্টি করে রাষ্ট্রকে দুর্বল করা।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড জানিয়েছে, ২৭ মে রাতে ইরান কুয়েতের দিকে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে যা কুয়েতি বাহিনী প্রতিহত করে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালির আশপাশে পাঁচটি আক্রমণাত্মক ড্রোন হামলার অভিযোগও আনে ওয়াশিংটন। পরে বন্দর আব্বাস থেকে আরেকটি ড্রোন উড্ডয়ন ঠেকানো হয়েছে বলেও দাবি করা হয়।
অন্যদিকে ভারতে অবস্থিত ইরানের দূতাবাস জানিয়েছে, সাম্প্রতিক মার্কিন হামলার জবাব হিসেবেই এই ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছিল। মূলত দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি ভঙ্গের অভিযোগ তুলেছে।
মোজতবা খামেনি মার্চে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে জনসমক্ষে খুব কমই এসেছেন। আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফেব্রুয়ারির এক বিমান হামলায় তিনি আহত হন এবং নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে এখন গোপন স্থানে অবস্থান করছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এপ্রিলের যুদ্ধবিরতির পর এটিই সবচেয়ে গুরুতর সংঘাত, যা চলমান শান্তি আলোচনাকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে।

