সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা শুরু হয়েছে। এই বৈঠককে ‘ঐতিহাসিক’ বলে উল্লেখ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তিনি দুই দেশের সম্পর্ক নতুনভাবে গড়ার আশা প্রকাশ করেছেন।
রবিবার লেক লুসার্নের পাশে বুরগেনস্টক রিসোর্টে এই বৈঠক শুরু হয়। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে নেতৃত্ব দেন ভ্যান্স। তার সঙ্গে ছিলেন জ্যারেড কুশনার ও স্টিভ উইটকফ। ইরানের পক্ষে নেতৃত্ব দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ও প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ।
বৈঠকের শুরুতে ভ্যান্স বলেন, এটি একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। তিনি বলেন, এখন প্রশ্ন হলো—দুই দেশ কি নতুনভাবে সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারবে, নাকি আগের অবস্থায় ফিরে যাবে।
ভ্যান্স জানান, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নত করতে চান। তবে এর জন্য শর্ত রয়েছে। ইরানকে আঞ্চলিক অস্থিরতা সৃষ্টি বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি ত্যাগ করতে হবে।
এই আলোচনা পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় হচ্ছে। আলোচনার টেবিল ইউ-আকৃতিতে সাজানো হয়। এক পাশে ছিল যুক্তরাষ্ট্র ও কাতার। অন্য পাশে ইরান ও পাকিস্তান। মাঝখানে বসেন মধ্যস্থতাকারীরা।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বলেন, এই আলোচনা থেকে ইতিবাচক ফল আসতে পারে। তিনি আশা করেন, এটি বিশ্বে শান্তি ও অগ্রগতিতে ভূমিকা রাখবে।
তবে এই ইতিবাচক বার্তার মধ্যেই উত্তেজনা বেড়েছে। একই দিনে ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, ইরানকে লেবাননে হিজবুল্লাহকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। তা না হলে যুক্তরাষ্ট্র আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেবে।
বৈঠকের সময় ইরানি প্রতিনিধি দল সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেনি। এমনকি যৌথ ছবি তোলার ক্ষেত্রেও তারা অংশ নেয়নি। ফলে আলোচনা নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।

