যুক্তরাষ্ট্রে ১০ দিন ধরে নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর একজন জামিল আহমেদ লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় তার রুমমেট ২৬ বছর বয়সী সাবেক ইউএসএফ শিক্ষার্থী হিশাম আবুঘারবিয়াহকে গ্রেফতার করা হয়েছে। নিখোঁজ আরেক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা এস বৃষ্টির সন্ধান এখনো পায়নি পুলিশ। তবে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে নাহিদাও আর জীবিত নেই।
গ্রেফতার হিশামকে জিজ্ঞাসাবাদের পর শুক্রবার ফ্লোরিডার হাওয়ার্ড ফ্রাঙ্কল্যান্ড ব্রিজ এলাকা থেকে জামিলের মরদেহ উদ্ধার করা হয় বলে হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের (পুলিশ) কার্যালয় জানিয়েছে। নিখোঁজ নাহিদার সন্ধান চলছে বলেও কার্যালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
নিহত জামিল ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় ভূগোল, পরিবেশবিজ্ঞান ও নীতি বিষয়ে পিএইচডি করছিলেন। নিখোঁজ নাহিদা ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে পিএইচডি করছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জামিল ও নাহিদাকে সর্বশেষ ১৬ এপ্রিল দেখা গিয়েছিল। সেদিন জামিলকে সর্বশেষ দেখা যায় সকাল ৯টার দিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে তার ছাত্রাবাসে। অন্যদিকে নাহিদাকে সর্বশেষ দেখা যায় সেদিন সকাল ১০টার দিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যাচারাল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস ভবনে।
হিলসবরো কাউন্টির শেরিফ চ্যাড ক্রোনিস্টার এক বিবৃতিতে বলেন, এটি একটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক ঘটনা, যা সবাইকে নাড়িয়ে দিয়েছে।
এ ঘটনায় লিমনের রুমমেট হিশাম আবুঘারবিয়াহর বিরুদ্ধে মারধর, অবৈধভাবে আটক, প্রমাণ নষ্ট করা, মৃত্যুর তথ্য গোপন রাখা এবং মৃতদেহ সরানোর অভিযোগ আনা হয়েছে।
সন্দেহভাজন আবুঘারবিয়াহকে অন্তত দু’বার জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল গ্রেফতারের আগে। তবে পরবর্তী জিজ্ঞাসাবাদের সময় তিনি সহযোগিতা বন্ধ করে দেন বলে জানায় পুলিশ। শুক্রবার সকালে তার পরিবারের বাড়িতে গিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তিনি বাড়ির ভেতরে নিজেকে আটকে রাখলে সোয়াট টিম ঘটনাস্থলে যায়। পরে তিনি আত্মসমর্পণ করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম নিউজউইকের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, লিমনের সাবেক রুমমেট ২৬ বছর বয়সী তরুণ হিশাম আবুঘারবিয়াহ যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। তিনি ২০২১ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন। তবে গ্রেপ্তারের সময় তিনি আর ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন না। তার বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক সহিংস অপরাধের অভিযোগ ছিল বলে জানিয়েছে স্থানীয় পুলিশ।
আদালত ও শেরিফ অফিসের রেকর্ড বলছে, ২০২৩ সালের মে ও সেপ্টেম্বর মাসে তার বিরুদ্ধে শারীরিক আঘাত করা এবং একটি জনশূন্য বাড়িতে চুরির অভিযোগ আনা হয়েছিল। যদিও সে সময় এগুলোকে অপেক্ষাকৃত লঘু গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছিল।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, এর আগে পারিবারিক সহিংসতার অভিযোগে ওই বাড়িতে প্রবেশে আদালতের নিষেধাজ্ঞা ছিল তার বিরুদ্ধে। ২০২৩ সালেও মারধরের অভিযোগে তাকে দু’বার গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, যদিও পরে সেসব অভিযোগ প্রত্যাহার করা হয়।
এদিকে, লিমনের মৃত্যুর কারণ এখনও জানতে পারেনি মেডিকেল টিম। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন শিগগিরই প্রকাশ করা হতে পারে।
নিহত লিমনের পরিবার জানায়, তারা ১০ দিন ধরে তার খোঁজ করছিলেন। তার ভাই জুবায়ের আহমেদ বলেন, আমরা ভীষণ কষ্টে আছি। কী ঘটেছে, শুধু সেটাই জানতে চাই।
লিমনের পরিবার জানায়, তিনি বৃষ্টিকে বিয়ের বিষয়েও ভাবছিলেন এবং তার সম্পর্কে পরিবারও জানতো।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট মোয়েজ লিমায়েম বলেন, শিক্ষার্থীদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।
সূত্র: সিএনএন

