ইন্টার মায়ামিতে একসঙ্গে আছেন বহু পুরোনো সতীর্থ। ইন্টার মায়ামির ড্রেসিংরুমে যেন এক টুকরো বার্সেলোনা। তবে সেই পরিচিত বন্ধনের মাঝেই হঠাৎ যেন বেজে উঠেছে ভাঙনের সুর। কোচের দায়িত্ব থেকে হঠাৎ সরে দাঁড়িয়েছেন হাভিয়ের মাচেরানো, আর তা ঘিরেই এখন ফুটবল দুনিয়ায় নানা প্রশ্ন।
আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ব্যক্তিগত কারণ’ দেখিয়ে পদত্যাগের কথা বলা হলেও, পর্দার আড়ালে অন্য গল্পের গুঞ্জন জোরালো। বিশেষ করে লিওনেল মেসির সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েনই কি এই সিদ্ধান্তের মূল কারণ- এমন প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে।
ঘটনার সূত্রপাত গত সপ্তাহে। নিউইয়র্ক রেড বুলসের বিপক্ষে ২-২ গোলে ড্রয়ের পর ড্রেসিংরুমে নাকি উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। দ্য অ্যাথলেটিক জানিয়েছে, সেই ঘটনার রেশ কাটার আগেই গত মঙ্গলবার পদত্যাগ করেন মাচেরানো।
তবে এই অস্থিরতার শুরু আরও আগে। কনক্যাকাফ চ্যাম্পিয়নস কাপের শেষ ষোলোতে ন্যাশভিলের কাছে হেরে বিদায় নেয় মায়ামি। গত মৌসুমে যাদের সহজেই হারিয়েছিল দলটি, তাদের কাছেই এমন পরাজয় মেনে নিতে পারেনি ক্লাব। সেই হতাশা থেকেই ড্রেসিংরুমে তৈরি হয় চাপা উত্তেজনা।
মেসি ও মাচেরানোর সম্পর্ক বহু বছরের। বার্সেলোনা থেকে আর্জেন্টিনা জাতীয় দল, সব জায়গাতেই ছিলেন একে অপরের ছায়া। কিন্তু কোচ ও খেলোয়াড়ের সম্পর্ক ভিন্ন সমীকরণে বাঁধা। সূত্রের দাবি, মাঠের কৌশল ও পারফরম্যান্স নিয়ে তাঁদের মধ্যে প্রায়ই তর্ক-বিতর্ক হতো। মাচেরানো কখনোই মেসিকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পিছপা হননি। তবে ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে সেই সম্পর্কেও ফাটল ধরেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে মায়ামিতে মেসির সাফল্য চোখে পড়ার মতো। তাঁর নেতৃত্বে লিগস কাপ, সমর্থক শিল্ড ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান লিগ কাপ— সবই জিতেছে দলটি। টানা দুই মৌসুমে লিগের সেরা খেলোয়াড়ও হয়েছেন তিনি।
মাচেরানোর বিদায়ের পর অন্তর্বর্তীকালীন কোচের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে গুইলারমো হয়োসকে। জানা গেছে, তাঁর সঙ্গে মেসির সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। অনেকেই মনে করছেন, এই নিয়োগের পেছনেও মেসির প্রভাব রয়েছে।
বর্তমানে ইস্টার্ন কনফারেন্সে তৃতীয় স্থানে রয়েছে ইন্টার মায়ামি। নতুন কোচের অধীনে আগামী ম্যাচেই শুরু হবে দলের নতুন অধ্যায়। তবে মাচেরানোর বিদায়ের প্রকৃত কারণ নিয়ে রহস্য আপাতত থেকেই যাচ্ছে।

