অনেকের ধারণা, আকাশ মেঘলা থাকলে বা বৃষ্টি হলে সানস্ক্রিন ব্যবহার না করলেও চলে। কারণ তখন সূর্যের আলো তেমন চোখে পড়ে না। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন—সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি (ইউভি) রশ্মি দৃশ্যমান না হলেও ত্বকের ওপর তার প্রভাব ঠিকই পড়ে। তাই আবহাওয়া যেমনই হোক, ত্বকের সুরক্ষায় সানস্ক্রিন ব্যবহার অপরিহার্য।
গবেষণায় দেখা গেছে, হালকা মেঘের স্তর ভেদ করে প্রায় ৮০ শতাংশ ইউভি রশ্মি ত্বকে পৌঁছাতে পারে। ফলে মেঘলা বা বৃষ্টির দিনেও ত্বক ক্ষতির ঝুঁকিতে থাকে।
অনেকে মনে করেন, বিকেলে বের হলে সানস্ক্রিনের প্রয়োজন নেই। বিকেল ৫টার পর সূর্যদাহের ঝুঁকি কিছুটা কমলেও ইউভিএ রশ্মি তখনও সক্রিয় থাকে। এই রশ্মি ত্বকের গভীরে প্রবেশ করে অকাল বার্ধক্য, বলিরেখা এবং দীর্ঘমেয়াদে ত্বকের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই বিকেলেও সানস্ক্রিন ব্যবহার করা উচিত।
সকালের সময়টাকেও অনেকে নিরাপদ মনে করেন। কিন্তু সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে ইউভিএ ও ইউভিবি রশ্মি ত্বকের ক্ষতি করে। বিশেষ করে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ইউভিবি রশ্মি সবচেয়ে তীব্র থাকে। তাই দিনের শুরু থেকেই সানস্ক্রিন ব্যবহার করা ভালো অভ্যাস।
শুধু বাইরে নয়, ঘরের ভেতরেও সানস্ক্রিন প্রয়োজন হতে পারে। জানালার কাচ ভেদ করে ইউভিএ রশ্মি ত্বকে পৌঁছাতে পারে। একইভাবে গাড়িতে ভ্রমণের সময়ও পাশের জানালা দিয়ে এই রশ্মি ঢুকে যেতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সানস্ক্রিন ব্যবহারের পাশাপাশি কিছু অভ্যাস ত্বককে বাড়তি সুরক্ষা দেয়। যেমন—
- ইউভি প্রতিরোধক পোশাক পরা
- বড় ছাঁটের টুপি ব্যবহার করা
- ভালো মানের সানগ্লাস পরা
আমাদের দৈনন্দিন জীবনে অল্প সময়ের জন্য বাইরে যাওয়া—বাজার, অফিস বা রাস্তায় হাঁটা—এসব সময়েও ত্বক ইউভি রশ্মির সংস্পর্শে আসে। তাই ‘অল্প সময়’ বলে বিষয়টিকে হালকাভাবে নেওয়া ঠিক নয়।
সানস্ক্রিন ব্যবহারের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো এটিকে দৈনন্দিন অভ্যাসে পরিণত করা। যেমন সকালে দাঁত ব্রাশ করা হয়, তেমনি বাইরে যাওয়ার আগে সানস্ক্রিন লাগানোও নিয়মে পরিণত করা উচিত।
সর্বোপরি, সূর্যের আলো শরীরের জন্য উপকারী হলেও এর অতিবেগুনি রশ্মি ত্বকের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। সচেতনতা ও নিয়মিত সানস্ক্রিন ব্যবহারের মাধ্যমে সহজেই এই ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

