মরক্কোর কৌশলে আটকে গেল ব্রাজিল

0
মরক্কোর কৌশলে আটকে গেল ব্রাজিল

নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই মরক্কোর রণকৌশলের সামনে আটকে গেল ব্রাজিল। ম্যাচ শেষ হয় ১-১ গোলে ড্র, তবে খেলার ধরণ ও নিয়ন্ত্রণের দিক থেকে স্পষ্টভাবে এগিয়ে ছিল আফ্রিকার দলটি।

চোটের কারণে নেইমার জুনিয়র মাঠে নামতে না পারায় ব্রাজিলের মাঝমাঠে বড় ধরনের শূন্যতা তৈরি হয়। ক্যাসেমিরো ও লুকাস পাকেতা চেষ্টা করলেও আক্রমণভাগে বল সরবরাহে স্পষ্ট ঘাটতি দেখা যায়। ফলে ভিনিসিয়ুস ও রাফিনহা বারবার নিচে নেমে বল নিতে বাধ্য হন, এতে আক্রমণের ধার কমে যায়।

মরক্কো শুরু থেকেই রক্ষণাত্মক না খেলে উচ্চ চাপের (হাই-প্রেসিং) ফুটবল খেলেছে। ম্যাচের শুরু থেকেই ব্রাজিলকে চাপে ফেলে তারা খেলার গতি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখে। ষষ্ঠ মিনিটেই বেনজামিন এল আইনুইয়ের আক্রমণ সেই চাপেরই ইঙ্গিত দেয়।

মরক্কোর আক্রমণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন ব্রাহিম দিয়াজ ও আশরাফ হাকিমি। উইং দিয়ে দ্রুত গতির আক্রমণে ব্রাজিলের রক্ষণভাগ বারবার বিপাকে পড়ে। ২১ মিনিটে ইসমায়েল সাইবারির গোলে এগিয়ে যায় মরক্কো, যা ছিল তাদের গোছানো ওয়ান-টাচ ফুটবলের ফল।

ব্রাজিলের আক্রমণভাগে নতুন মুখ ইগর থিয়াগো প্রথমার্ধে সহজ সুযোগ মিস করেন, যা কোচ কার্লো আনচেলোত্তির জন্য উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। ভিনিসিয়ুসের সঙ্গে তার বোঝাপড়া এখনও গড়ে ওঠেনি, সেটিও ম্যাচে স্পষ্ট হয়েছে।

তবে ব্রাজিলের ভরসা হয়ে ওঠেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। ৩২ মিনিটে একক দক্ষতায় ডিফেন্ডারদের কাটিয়ে দারুণ শটে গোল করে দলকে সমতায় ফেরান তিনি। এটি ছিল ব্রাজিলের জার্সিতে তার দশম গোল।

দ্বিতীয়ার্ধে কিছুটা রক্ষণ জমাট করে ম্যাচে ফিরে আসে ব্রাজিল। তবে মরক্কোর চাপ কমেনি। হাই-প্রেসিং ও কাউন্টার অ্যাটাকিং কৌশলে তারা বারবার ব্রাজিলকে ব্যাকফুটে ঠেলে দেয়।

বিশ্লেষকদের মতে, মাঝমাঠে সৃষ্ট এই দুর্বলতা কাটাতে না পারলে ব্রাজিলের হেক্সা মিশন কঠিন হয়ে পড়বে। বিশেষ করে নেইমারের অনুপস্থিতিতে প্লে-মেকিং ঘাটতি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here