ভোজ্যতেলে কারসাজির অভিযোগে টিকে গ্রুপের প্রতিষ্ঠানকে ৩২ কোটি টাকা জরিমানা

0
ভোজ্যতেলে কারসাজির অভিযোগে টিকে গ্রুপের প্রতিষ্ঠানকে ৩২ কোটি টাকা জরিমানা

ভোজ্যতেলের বাজার নিয়ন্ত্রণ ও সরবরাহে কারসাজির অভিযোগে টিকে গ্রুপের মালিকানাধীন শবনম ভেজিটেবল অয়েল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডকে ৩২ কোটি ৪৪ লাখ টাকা প্রশাসনিক আর্থিক জরিমানা করেছে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন।

বৃহস্পতিবার প্রতিযোগিতা কমিশনের সচিব মাহবুবুর রহমান খান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

কমিশনের রায়ে বলা হয়, শবনম ভেজিটেবল অয়েল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ২০১৯-২০, ২০২০-২১ ও ২০২১-২২ অর্থবছরের নিরীক্ষিত হিসাব বিবরণীতে উল্লিখিত গড় বার্ষিক টার্নওভারের ভিত্তিতে এবং প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এটিই প্রথম মামলা হওয়ায় বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রতিযোগিতা আইন, ২০১২-এর ধারা ২০ অনুযায়ী নির্দেশনাসহ ৩২ কোটি ৪৪ লাখ টাকা প্রশাসনিক আর্থিক জরিমানা আরোপ করা হয়েছে।

বলা হয়েছে, চূড়ান্ত আদেশ ঘোষণার পরবর্তী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটিকে জরিমানার অর্থ পরিশোধ করতে হবে। তবে সংশ্লিষ্ট আইনের বিধান অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটি আপিল বা আদেশ পুনর্বিবেচনার আবেদন করার সুযোগ পাবে।

অভিযোগের পটভূমি প্রতিযোগিতা কমিশন জানায়, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে ভোজ্যতেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণ অনুসন্ধানে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করে। তদন্তে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে সরবরাহ সংকট সৃষ্টি ও সরবরাহ আদেশ (এসও) সংক্রান্ত অনিয়মের মাধ্যমে মূল্যবৃদ্ধির প্রমাণ পাওয়া যায়। এরই প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি অনুসন্ধান দল গঠন করে।

পরে কমিশনের নিজস্ব অনুসন্ধান এবং জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে শবনম ভেজিটেবল অয়েল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের বিরুদ্ধে মামলা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

শবনম ভেজিটেবল অয়েলের বিরুদ্ধে মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০১১ সালের অত্যাবশ্যকীয় পণ্য বিপণন ও পরিবেশক নিয়োগ আদেশের ৯(৩) ধারা অনুযায়ী কোনো সরবরাহ আদেশের (এসও) মেয়াদ সর্বোচ্চ ১৫ দিন হবে এবং কোনো অবস্থাতেই তা বাড়ানো যাবে না। এছাড়া মেয়াদোত্তীর্ণ সরবরাহ আদেশের বিপরীতে পণ্য সরবরাহ করা নিষিদ্ধ। কিন্তু প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মেয়াদোত্তীর্ণ সরবরাহ আদেশ (এসও) ব্যবহার করে পণ্য সরবরাহের তথ্য পাওয়া যায়, যা প্রতিযোগিতাবিরোধী কর্মকাণ্ড হিসেবে বিবেচিত হয়।

পারস্পরিক যোগসাজশের মাধ্যমে ভোজ্যতেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এবং উৎপাদন, সরবরাহ ও বাজার নিয়ন্ত্রণের অভিযোগে ২০২২ সালে প্রতিযোগিতা আইন, ২০১২-এর অধীনে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।

কমিশনের পর্যবেক্ষণ কমিশনের রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, শবনম ভেজিটেবল অয়েল ২০২২ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত ভোজ্যতেলের উৎপাদন ও সরবরাহ সীমিত করে। একই সঙ্গে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগসাজশ করে বাজার নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ভোজ্যতেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়ে তোলে।

এ কারণে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে প্রতিযোগিতা আইন, ২০১২-এর ধারা ১৫-এর উপধারা (১) এবং উপধারা (২)-এর দফা (ক)-এর উপদফা (অ) ও দফা (খ) লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে কমিশন রায়ে উল্লেখ করেছে।

কমিশনে এও জানিয়েছে, এসব কর্মকাণ্ড প্রতিযোগিতা আইনের আওতায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here