কিশোরগঞ্জের ভৈরবে একটি মাইক্রোবাসস্ট্যান্ডের নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে স্থানীয় দুপক্ষের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (১০ জুন) রাত সোয়া আটটা থেকে শুরু হওয়া এই সংঘর্ষ দফায় দফায় চলে রাত প্রায় ১২টা পর্যন্ত।
এতে ভৈরব থানার ওসিসহ পুলিশের ৫ সদস্য এবং উভয় পক্ষের অন্তত অর্ধশত ব্যক্তি আহত হয়েছেন। সংঘর্ষ চলাকালে ঢাকা-সিলেট ও ভৈরব-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়, যার ফলে উভয় পাশে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েন হাজারো যাত্রী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভৈরব মাইক্রোস্ট্যান্ডের সভাপতি মো. সিয়াম। তিনি পৌর শ্রমিক দলেরও সভাপতি। তার নেতৃত্বে মাইক্রোস্ট্যান্ড পরিচালিত হচ্ছে। কয়েকদিন আগে ভৈরবপুর এলাকার কয়েকজন মাইক্রোস্ট্যান্ডে গিয়ে তাদের পছন্দের একজন চালককে মাইক্রোবাসের চালক করার দাবি করেন। সভাপতি সেটা মেনে নেননি। বিষয়টি নিয়ে কয়েকদিন ধরে উত্তেজনা চলছিল।
তারই জেরে বুধবার সন্ধ্যার পর ভৈরবপুর এলাকার কিছু মানুষ মাইক্রোস্ট্যান্ডে ভাঙচুর চালায়। পরে সভাপতির পক্ষে কমলপুর এলাকার লোকজন ভৈরবপুর এলাকার লোকজনকে প্রতিহত করতে রাত সোয়া ৮টার দিকে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মহাসড়কের ওপর সংঘর্ষে জড়ায়।
সংঘর্ষ শুরুর পর গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। উভয় পাশে অন্তত দুই কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। সংঘর্ষ শুরুর কিছু সময় পর বিদ্যুৎ চলে যায়। তখন বাসস্ট্যান্ডের বেশ কয়েকটি ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান ও একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে বলেও জানা গেছে। সংঘর্ষের সময় ককটেল বিস্ফোরণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
সংঘর্ষ থামাতে ভৈরব উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলামের নেতৃত্বে কয়েকজন উদ্যোগ নেন বলে জানা গেছে। তিনি বলেন, মহাসড়কে সংঘর্ষ হওয়ায় দুর্ভোগ বেশি হয়েছে।
ভৈরব সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আবু মুসা শেখ জানা জানান, সংঘর্ষে ভৈরব থানার ওসিসহ পুলিশের পাঁচ সদস্য ইটপাটকেলের আঘাতে আহত হয়েছেন। রাত ১২টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।

