বিশ্বকাপের পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের বিপক্ষে সেয়ানে সেয়ানে টক্কর দিয়েছে মরক্কো। জয় না পেলেও শেষপর্যন্ত ব্রাজিলকে ১-১ গোলে রুখে দিয়েছে দলটি। পুরো ম্যাচে ব্রাজিলিয়ান তারকা ফরোয়ার্ডদের পকেটে পুরে রেখেছিলেন আইয়ুব বুয়াদ্দি। মাত্র ১৮ বছর বয়সে বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন তিনি।
অবশ্য বিশ্বকাপের আগে থেকেই আলোচনায় ছিলেন মরক্কোর আইয়ুব বুয়াদ্দি। ফ্রান্সে জন্ম এবং দেশটির হয়ে বয়সভিত্তিক দলের নেতৃত্বও দিয়েছেন তিনি। কিন্তু বিশ্বকাপে হয়ে মরক্কোর নাগরিকত্ব পাওয়ার আশায় দেশটিতে ছুটছিলেন তিনি। সেখানে সফল হওয়ার পর ব্রাজিলের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিষেকে রীতিমতো ঝলক দেখিয়েছেন এই মিডফিল্ডার।
বুয়াদ্দির জন্ম ফ্রান্সের সেলনিসে হলেও তার বাবা-মা মরক্কান। ফলে নিজের শেকড়ের সঙ্গে আবেগটা বেশি ছিল এই তরুণ মিডফিল্ডারের। যারা অভিবাসী হিসেবে ফরাসি ভূখণ্ডে এসেছিলেন। তবে ফ্রান্সের মতো ফুটবলের ইতিহাস-সমৃদ্ধ দেশ রেখে মরক্কোকেই আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের জন্য বেছে নিয়েছেন তিনি। ফ্রান্সের জন্য এটি নিঃসন্দেহে ক্ষতি, কারণ বুয়াদ্দি কিশোর বয়স থেকেই অসাধারণ প্রতিভার পরিচয় দিচ্ছেন।
পরিসংখ্যান বলছে, বিশ্বকাপের অভিষেক ম্যাচে ৯১ শতাংশ পাসেই (৬৬টির মধ্যে ৬০) সফলতা পেয়েছেন ১৮ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডার। ফাইনাল থার্ডে সফল ছিল শতভাগ (১৬ তে ১৬)। এছাড়া, ৬টি বল রিকভারি, ৫টি ইন্টারসেপশন ও ৯টি ডুয়েলে জিতেছেন বুয়াদ্দি। প্রথমবার বিশ্বকাপ মঞ্চ এবং ব্রাজিলের মতো পরাশক্তির বিপক্ষে স্নায়ু ও সামর্থ্যের লড়াইয়ে পুরোপুরি জিতেছেন তিনি, নজর কেড়েছেন ফুটবল ভ্ক্তদের।
বুয়াদ্দি সিনিয়র পর্যায়ে কোন দেশের জার্সি পরবেন, তা নিয়ে ফ্রান্স ও মরক্কোর মধ্যে এক ধরনের টানাপোড়েন ছিল। শেষ পর্যন্ত মরক্কোকেই দেশকেই বেছে নেন তিনি।
মরক্কোর হয়ে খেলার সিদ্ধান্ত নিশ্চিত হওয়ার পর বুয়াদ্দি বলেছিলেন, আমি আমার সিদ্ধান্ত নিয়েছি এবং এ নিয়ে আমি খুব গর্বিত।

