বিশ্বকাপের আগে নির্ধারিত দুটি প্রীতি ম্যাচকে সামনে রেখে প্রথম অনুশীলন সেশন সম্পন্ন করেছে আর্জেন্টিনা। সোমবার (১ জুন) যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস সিটিতে অনুষ্ঠিত এই অনুশীলনে কোচ লিওনেল স্ক্যালোনির ঘোষিত ২৬ সদস্যের মূল দলের খেলোয়াড়দের পাশাপাশি কয়েকজন অতিরিক্ত ফুটবলারও অংশ নেন।
স্থানীয় সময় সন্ধ্যার পর দলটি পৌঁছায় কম্পাস মিনারেলস ন্যাশনাল পারফরম্যান্স সেন্টারে। গরম আবহাওয়ার মধ্যেও খেলোয়াড়রা প্রথমে জিমে এবং পরে মাঠে হালকা অনুশীলন করেন। পুরো দলকে নিয়ে এটি ছিল প্রথম প্রস্তুতি সেশন।
তবে অনুশীলনের শুরুতেই চোটে আক্রান্ত কয়েকজন ফুটবলারের অবস্থা নিয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে কোচিং স্টাফ। সর্বশেষ চোট পেয়েছেন মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেস। বোকা জুনিয়র্সের হয়ে খেলতে গিয়ে ডান পায়ের হ্যামস্ট্রিংয়ে আঘাত পান তিনি। যদিও বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচের আগেই তাকে ফিট করে তোলার চেষ্টা চলছে।
গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজও পুরোপুরি সুস্থ নন। ইউরোপা লিগের ফাইনালের আগে বাম হাতের একটি আঙুলে চোট পান তিনি। পরীক্ষায় সেখানে চিড় ধরা পড়লেও ব্যান্ডেজ নিয়েই দলে যোগ দিয়েছেন এই গোলরক্ষক।
এ ছাড়া নিকো পাজ হাঁটুর সমস্যায় ভুগছেন, ক্রিস্টিয়ান রোমেরো পুনর্বাসনের শেষ ধাপে রয়েছেন এবং হুলিয়ান আলভারেজও গোড়ালির চোট কাটিয়ে ফেরার পথে। তাদের পাশাপাশি নিকোলাস গঞ্জালেস, গঞ্জালো মন্তিয়েল ও নাহুয়েল মলিনার অবস্থাও পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
চোট-সংকটের বিষয়টি মাথায় রেখে কয়েকজন বিকল্প ফুটবলারকে প্রস্তুত রেখেছে আর্জেন্টিনার কোচিং স্টাফ। সম্ভাব্য বিকল্পদের তালিকায় রয়েছেন সান্তিয়াগো বেলত্রান, অগাস্টিন গিয়াই, নিকোলাস কাপালদো, নিকোলাস ডমিঙ্গুয়েজ, মাতিয়াস সুলে, ম্যাক্সিমো পেরোন ও এমিলিয়ানো বুয়েন্দিয়া।
বিশ্বকাপ চলাকালে কানসাস সিটিকেই নিজেদের বেস ক্যাম্প হিসেবে ব্যবহার করবে আর্জেন্টিনা। সেখান থেকেই বিভিন্ন ভেন্যুতে ম্যাচ খেলতে যাবে দলটি।
এর আগে দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ৭ জুন টেক্সাসের কলেজ স্টেশনে হন্ডুরাসের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। এরপর ১০ জুন আলাবামার অবার্নে আইসল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে তারা।
প্রীতি ম্যাচ শেষ করে আবার কানসাসে ফিরে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচের প্রস্তুতি নেবে স্ক্যালোনির দল। ১৭ জুন আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে তাদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হবে। এরপর ২২ জুন অস্ট্রিয়া এবং ২৮ জুন জর্ডানের বিপক্ষে গ্রুপপর্বের বাকি দুটি ম্যাচ খেলবে আর্জেন্টিনা।
দলটির লক্ষ্য, নকআউট পর্ব পেরিয়ে অন্তত কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছানো এবং সেই সময় পর্যন্ত কানসাস সিটিকেই নিজেদের প্রধান ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করা।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স, টিএন.কম.এআর

