বিশ্বকাপে কানাডার ক্রিকেটারকে অতিরিক্ত নিরাপত্তা দেওয়া হয়

0
বিশ্বকাপে কানাডার ক্রিকেটারকে অতিরিক্ত নিরাপত্তা দেওয়া হয়

ভারত ও  শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠেয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে কানাডার একটি ম্যাচকে ঘিরে তদন্ত করছে আইসিসি। সিবিসি নিউজের প্রতিবেদনে, ওই ম্যাচে ফিক্সিংয়ের মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে লরেন্স বিশনোই গ্যাং জড়িত থাকতে পারে বলে উঠে এসেছে।

এদিকে বিশ্বকাপের চলাকালীন কানাডার স্কোয়াডের একজন খেলোয়াড়কে অতিরিক্ত নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে তার প্রকাশ করা হয়নি। টুর্নামেন্টের সহ আয়োজক শ্রীলঙ্কায় অবতরণের পর নিরাপত্তাহীনতা বোধ করায়, ওই খেলোয়াড় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে যান, যার নাম প্রকাশ করা হয়নি।

টরন্টো সানের একটি প্রতিবেদন অনুসারে, কিছুদিন দেশে থাকার পর ফিরে এসে তিনি কোনো সাক্ষাৎকার দিতে রাজি হননি। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে কানাডার ম্যাচে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের অভিযোগ তুলে কানাডিয়ান ব্রডকাস্টিং করপোরেশন (সিবিসি) একটি তথ্যচিত্র প্রকাশ করে। এরপর কানাডার ক্রিকেট অঙ্গনে অস্থিরতা তৈরি হয়।

এই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন কানাডার অধিনায়ক দিলপ্রীত বাজওয়া, যার নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ উঠেছে, নিকোলাস কির্টনের পরিবর্তে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য রওনা হওয়ার ঠিক আগে তাকে দলের অধিনায়ক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।

তথ্যচিত্রটি অনুসারে, বাজওয়ার নিয়োগে ক্রিকেট কানাডার সভাপতি আরভিন্দর খোসার ভূমিকা ছিল। তবে খোসা এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, তিনি সেই সময়ে ক্রিকেট কানাডায় ছিলেন না এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে তার কোনো ভূমিকা ছিল না।

টরন্টো সানকে খোসা বলেন, আমি বিশ্বাস করতে পারছি না যে তথ্যচিত্রটিতে বাজওয়ার পদোন্নতির সঙ্গে আমাকে জড়ানো হয়েছে। আমি সেই সময়ে ক্রিকেট কানাডায় ছিলামই না এবং এই বিষয়ে আমার কোনো ভূমিকা ছিল না।

অন্যদিকে চেন্নাইতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের পর বাজওয়াকে আইসিসির দুর্নীতি দমন ইউনিট জিজ্ঞাসাবাদ করছে। তিনি দলের একটি মিটিংয়ে অনুপস্থিত থাকতে বাধ্য হন। বিষ্ণোই গ্যাংয়ের যোগসূত্র সামনে এলো সিবিসি নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের হুমকি দলের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করেছে।

নোয়া নামের এক সূত্র এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তাই তারা তাকে সরাসরি এই কথাগুলো বলেছিল যে, তোমাকে এই লোকগুলোর খেয়াল রাখতে হবে। এদের যেন দল থেকে বাদ দেওয়া না হয়। যদি তা হয়, তাহলে তুমি বিপদে পড়বে। স্বাভাবিকভাবেই, এটা তার জন্য খুব ভীতিকর ছিল।

নোয়া আরও প্রকাশ করেন, কীভাবে বিষ্ণোই গ্যাং দলের নির্দিষ্ট খেলোয়াড়দের সমর্থন করার জন্য ব্যক্তিদের হুমকি দিত। আমরা জানি তুমি কোথায় থাকো। তুমি বিষ্ণোই গ্রুপের হাত থেকে পালাতে পারবে না। নোয়া গ্রুপটির পাঠানো হুমকি বার্তাগুলোর বর্ণনা দেন তিনি।

প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, বিষ্ণোই গ্যাংয়ের মূল লক্ষ্য ছিল বাজওয়াকে দলের অধিনায়ক করা এবং নির্দিষ্ট খেলোয়াড়দের যেন দল থেকে বাদ দেওয়া না হয় তা নিশ্চিত করা। এই পরিস্থিতি সবার মনে ভয়ের সঞ্চার করেছিল, যার ফলে কেউ কেউ পুলিশি সুরক্ষা চেয়েছিলেন এবং অন্যরা নিজ নিজ পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here