দেশীয় ও বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণে বেসরকারি খাতের কর্পোরেট করের হার বর্তমান ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশ করার প্রস্তাব জানিয়েছে জাপান-বাংলাদেশ চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (জেবিসিসিআই)।
তারা জানায়, অনেক দেশ প্রত্যক্ষ বিদেশী বিনিয়োগ (এফডিআই) আকর্ষণের জন্য কম কর্পোরেট কর ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। আর বাংলাদেশের তুলনামূলকভাবে উচ্চ কর্পোরেট করের বোঝা শিল্প সম্প্রসারণ এবং মূলধন প্রবাহকে নিরুৎসাহিত করে। বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়াতে কর্পোরেট করের হার কমানোর দাবি জানান তারা।
আজ রবিবার রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানায় জেবিসিসিআই। এসময় উপস্থিত ছিলেন জাপান-বাংলাদেশ চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (জেবিসিসিআই) সভাপতি তারেক রাফি ভূঁইয়া (জুন), আইসিএবি সাবেক সভাপতি এবং জেবিসিসিআই সাধারন সম্পাদক মারিয়া হাওলাদার এফসিএ, জেবিসিসিআই প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও উত্তরা গ্রুপের চেয়ারম্যান মতিউর রহমান, জেবিসিসিআই সহ সভাপতি মতিউর রহমান, জেবিসিসিআই সাবেক সভাপতি আসিফ এ চৌধুরী প্রমুখ।
সংবাদ সম্মেলনে জাপান-বাংলাদেশ চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (জেবিসিসিআই) ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটের জন্য বিভিন্ন সুপারিশমালা পেশ করে। এর মধ্যে বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নত করা, শিল্প প্রতিযোগিতা সক্ষমতা শক্তিশালী করা, অর্থনৈতিক সম্প্রসারণ ও আনুষ্ঠানিকীকরণের মাধ্যমে রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি এবং টেকসই দীর্ঘমেয়াদী প্রবৃদ্ধিকে সমর্থন করার ওপর আলোচনা করা হয়। জেবিসিসিআই মনে করে আসন্ন জাতীয় বাজেটে শুধুমাত্র রাজস্ব আদায়ের ওপর মনোযোগ না দিয়ে প্রবৃদ্ধি, বিনিয়োগ এবং রাজস্ব ব্যবস্থার আধুনিকীকরণকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।
জেবিসিসিআই সামগ্রিক ভ্যাট ব্যবস্থাকে সরল করার জন্য স্ট্যান্ডার্ড ভ্যাট হার ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে সাড়ে ৭ শতাংশ করার এবং একটি একীভূত ভ্যাট হার কাঠামো প্রবর্তনের প্রস্তাব করে। অতিরিক্ত উৎসে কর ব্যবসার নগদ প্রবাহের উপর চাপ সৃষ্টি করে, কার্যকরী মূলধনের সীমাবদ্ধতা বাড়ায় এবং ব্যবসা পরিচালনার সামগ্রিক ব্যয় বৃদ্ধি করে। অতিরিক্ত অগ্রিম বা ন্যূনতম কর ব্যবস্থার পরিবর্তে কর ব্যবস্থা প্রাথমিকভাবে নিট লাভের উপর ভিত্তি করে হওয়া উচিত। বিদ্যমান ন্যূনতম কর ব্যবস্থা লোকসানে পরিচালিত হলেও কোম্পানিগুলোর উপর অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা চাপিয়ে দেয়, যার ফলে বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত হয় এবং ব্যবসার স্থায়িত্বের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
জেবিসিসিআই সভাপতি তারেক রাফি ভূঁইয়া (জুন) বলেন, বেসরকারি খাতের জন্য সাধারণ কর্পোরেট করের হার ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশ করা প্রয়োজন। বিশ্বের অনেক দেশই অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে করের হার কমাচ্ছে। প্রতিযোগিতামূলক কর্পোরেট কর কাঠামো শিল্প সম্প্রসারণকে উৎসাহিত করবে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে এবং বৃহত্তর অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদী রাজস্ব বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে।
তিনি বলেন, ২০২৫ সাল পর্যন্ত টেক্সটাইল খাত ১৫ শতাংশ হ্রাসকৃত কর্পোরেট কর সুবিধা পেতো। বর্তমানে এই খাতটি সাধারণ কর হারের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, যা এমন এক সময়ে শিল্পের ওপর করের বোঝা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে। এতে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা, উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি, জ্বালানি সংকট এবং পণ্যের দামের চাপ ব্যবসায়িক সক্ষমতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

