গার্মেন্টসের জমানো টাকায় আঙুর চাষ, এখন তিনি সফল উদ্যোক্তা

0
গার্মেন্টসের জমানো টাকায় আঙুর চাষ, এখন তিনি সফল উদ্যোক্তা

পড়ালেখার পাশাপাশি পোশাক কারখানায় শ্রমিকের কাজ করে জমানো টাকায় বাণিজ্যিক আঙুর চাষে সফলতা পেয়েছেন ময়মনসিংহের ভালুকার তরুণ উদ্যোক্তা মো. মোকছেদুল ইসলাম। ফেসবুক ও ইউটিউব দেখে আঙুর চাষের কৌশল শিখে বর্তমানে তিনি গড়ে তুলেছেন অন্তত ২০ জাতের আঙুরের বাগান।

উপজেলার মল্লিকবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা মোকছেদুল ইসলাম এবার কামিল (মাস্টার্স) পরীক্ষা দিয়েছেন। তাঁর বাবা খুরশেদ আলম স্থানীয় একটি মসজিদের ইমাম। ২০২২ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত একটি পোশাক কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করে জমানো অর্থ দিয়ে বাড়ির পাশে ১৪ শতক জমিতে ১৮০টি আঙুরগাছের বাগান গড়ে তোলেন তিনি।

সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাগানে থোকায় থোকায় ঝুলছে বিভিন্ন জাতের আঙুর। ভ্যালেজ, ডিক্সন, গ্রিন লং, ব্ল্যাক রুবি, সামার ব্ল্যাকসহ অন্তত ২০ জাতের আঙুর রয়েছে সেখানে। পাশাপাশি নিজেই চারা উৎপাদন করে বিক্রিও করছেন তিনি।

মোকছেদুল ইসলাম জানান, প্রথমে শখের বসে কয়েকটি গাছ লাগালেও পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিদেশি আঙুর চাষের বিভিন্ন ভিডিও দেখে উদ্বুদ্ধ হন। এরপর বিভিন্ন উৎস থেকে চারা সংগ্রহ করে নিজেই চারা উৎপাদনের কৌশল রপ্ত করেন। এ পর্যন্ত আঙুর চাষে প্রায় ৩ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছেন বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, ‘এ বছর প্রথমবার বাণিজ্যিকভাবে ফলন এসেছে। প্রতি কেজি আঙুর ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি করা সম্ভব হবে বলে আশা করছি। পাশাপাশি চারা বিক্রি করেও ভালো আয় হচ্ছে।’

স্থানীয় উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. রাশেদুজ্জামান বলেন, ‘ভালুকার মাটি আঙুর চাষের জন্য উপযোগী। মোকছেদুলের বাগানে ভালো ফলন হয়েছে। কৃষি বিভাগ থেকে তাকে নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নুসরাত জামান বলেন, ‘দেশে বাণিজ্যিকভাবে আঙুর চাষের সম্ভাবনা রয়েছে। আগ্রহীদের কৃষি বিভাগ থেকে প্রশিক্ষণ ও চারার সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here