২০২৬ সালের নির্বাচনী ফলাফলে ভূমিধস জয় পেয়েছে বিজেপি। আগামী ৯ মে, শনিবার কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে বিজেপির নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠানে দলের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শপথ নেবেন।
তবে নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর চার দিন পেরিয়ে গেলেও বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেননি তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি ভোটের ফলাফলকে কারচুপি বলে দাবি করেন। মমতা বলেন, “আমরা হেরিনি, আমাদের জোর করে হারানো হয়েছে।”
এই পরিস্থিতির মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান বিধানসভা ভেঙে দিয়েছেন রাজ্যপাল আর. এন. রবি। বুধবারই মমতার নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের মেয়াদের শেষ দিন ছিল। নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ায় বিধানসভার কার্যকারিতাও শেষ হয়ে যায় বলে জানানো হয়।
বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে রাজ্যপাল বলেন, ভারতের সংবিধানের ১৭৪ অনুচ্ছেদের (২) ধারা (খ) উপধারার ক্ষমতা প্রয়োগ করে আমি ২০২৬ সালের ৭ মে থেকে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ভেঙে দিচ্ছি।
এর ফলে আনুষ্ঠানিকভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আর মুখ্যমন্ত্রী পদে নেই বলে প্রশাসনিকভাবে ধরা হচ্ছে। নতুন সরকার গঠনের আগ পর্যন্ত রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে রাজ্যের মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিয়ালা এক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার মাধ্যমে ১৭তম পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার কার্যকাল শেষ হলো এবং ১৮তম বিধানসভা গঠনের পথ খুলে গেল।
এদিকে কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি চলছে জোরেশোরে। অস্থায়ী প্যান্ডেল ও তাবু নির্মাণের কাজ চলছে।
শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। অমিত শাহ বৃহস্পতিবার রাতে কলকাতায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে। শুক্রবার তিনি বিজেপির পরিষদীয় দলের বৈঠকে অংশ নেবেন। সেখানেই নতুন পরিষদীয় নেতা এবং পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হবেন।

