তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার দিনে সোমবার এক নজিরবিহীন রাজনৈতিক ভূমিকম্পের সাক্ষী থাকল গোটা রাজ্য। দীর্ঘদিনের অপরাজেয় দুর্গ বলে পরিচিত কোলাতুর কেন্দ্রে নাটকীয়ভাবে পরাজিত হলেন মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিন।
দ্রাবিড় রাজনীতির এই প্রভাবশালী মহীরুহকে পরাজিত করেছেন এক সময়ের তারই ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং বর্তমান টিভিকে (টিভিকে) নেতা ভিএস বাবু। নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল অনুযায়ী, স্ট্যালিনের চেয়ে ৯ হাজার ১৯২ ভোট বেশি পেয়ে জয়ী হয়েছেন তিনি। এই হার কেবল স্ট্যালিনের ব্যক্তিগত পরাজয় নয় বরং গত কয়েক দশক ধরে তামিলনাড়ু রাজনীতিতে আধিপত্য বিস্তার করা ডিএমকের অস্তিত্বের ওপর বড় এক আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কোলাতুর কেন্দ্রের ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ২০১১ সালে সীমানা পুনর্নির্ধারণের পর এই আসনটি গঠিত হয়েছিল। সে সময় উপ-মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন স্ট্যালিন মাত্র ২ হাজার ৭৩৪ ভোটের ব্যবধানে এআইএডিএমকের সাইদাই দুরাইসামিকে হারিয়েছিলেন।
পরবর্তীকালে ২০১৬ এবং ২০২১ সালের নির্বাচনে জয়ের ব্যবধান যথাক্রমে ৩৭ হাজার এবং ৭০ হাজার ছাড়িয়ে গিয়েছিল। ফলে কোলাতুরকে স্ট্যালিনের নিশ্ছিদ্র দুর্গ বলেই মনে করা হতো। কিন্তু ২০২৬ সালের এই নির্বাচনে দৃশ্যপট সম্পূর্ণ বদলে গেছে। এই পরাজয়ের নেপথ্যে রয়েছে দীর্ঘদিনের এক রাজনৈতিক অভিমান এবং প্রতিশোধের গল্প।
ফিরে তাকালে দেখা যায়, ২০১১ সালের নির্বাচনে স্ট্যালিনের প্রচারণার মূল কারিগর ছিলেন এই ভিএস বাবু। উত্তর চেন্নাইয়ের জেলা ইন-চার্জ হিসেবে তার ওপর বিশাল দায়িত্ব ন্যস্ত ছিল। কিন্তু সেবার স্তালিনের জয়ের ব্যবধান আশানুরূপ না হওয়ায় ক্ষুব্ধ ডিএমকে নেতৃত্ব ভিএস বাবুকে পদ থেকে সরিয়ে দেয়। তার জায়গায় স্থলাভিষিক্ত করা হয় পিকে শেখর বাবুকে। দল থেকে কার্যত নির্বাসিত হওয়ার পর ২০১৬ সালে তিনি এআইএডিএমকে-তে যোগ দেন এবং সবশেষে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিজয়ের নেতৃত্বাধীন টিভিকে-তে শামিল হন। আজ সেই পুরনো কর্মীর হাতেই স্তালিনকে তার নিজের দুর্গে কুপোকাত হতে হলো।
বিজয়-এর দল তামিলগা ভেট্রি কাজাগাম এই নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল অনেকটা আড়ালে থাকা শক্তি হিসেবে। গত ছয় দশক ধরে তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে ডিএমকে এবং এআইএডিএমকে-র যে দ্বিমুখী আধিপত্য ছিল, তাকে কার্যত চুরমার করে দিয়েছে টিভিকে। ২০১৯ এবং ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ডিএমকে জোটের বিপুল সাফল্য এবং ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয় স্তালিনকে আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছিল।
এমনকি ভোট গণনার কয়েকদিন আগেও স্ট্যালিন জয়ের ব্যাপারে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছিলেন। অন্যদিকে জয়ললিতার প্রয়াণের পর এআইএডিএমকে নেতৃত্ব সংকটে ভুগলেও তারা প্রধান প্রতিপক্ষ হিসেবে বিবেচ্য ছিল। কিন্তু পর্দার আড়ালে ভিএস বাবুর মতো ঝানু রাজনৈতিক কৌশলীকে ব্যবহার করে বিজয় যে চাল চাললেন, তাতে ধরাশায়ী হতে হলো খোদ মুখ্যমন্ত্রীকে।
সূত্র: এনডিটিভি

