বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবের পদ নিয়ে শুরু হয়েছে ক্ষমতার লড়াই। নেপথ্যে অ্যাডমিন ও সাবেক ইকোনমিক ক্যাডার দ্বন্দ্বের বিষয়টির কথা শোনা যাচ্ছে। আর এই লড়াইয়ে পক্ষ হয়ে গেছেন সরকারের দুই প্রভাবশালী মন্ত্রী। দুই মন্ত্রীর পছন্দ-অপছন্দের ফেরে আটকে গেছে নতুন সচিবের দায়িত্ব গ্রহণ।
সচিববিহীন মন্ত্রণালয়ে রুটিন কাজের বাইরে গুরুত্বপূর্ণ কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া যাচ্ছে না। সাধারণ কাজকর্মেও চলছে ঢিলেঢালা ভাব। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত সচিব মাহবুবুর রহমান গত ১৭ এপ্রিল ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তারপর থেকে গত দেড় মাস মন্ত্রণালয়ের প্রধান কর্মকর্তার পদটি শূন্য। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আবদুর রহিম খান রুটিন দায়িত্ব পালন করছিলেন।
সূত্র জানায়, ঈদের আগে ২৫ মে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. আতাউর রহমান খানকে পদোন্নতি দিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নতুন সচিব হিসেবে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। ঈদের ছুটির পর প্রথম কার্যদিবস সোমবার সকালে নিয়োগপ্রাপ্ত সচিব তাঁর দপ্তরে যান। কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে চারতলায় বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের দপ্তরে গিয়ে যোগদানপত্র দাখিল করেন। তবে মন্ত্রী তাঁর যোগদানপত্র গ্রহণ করেননি।
নিয়োগপ্রাপ্ত সচিব মন্ত্রীর দপ্তর থেকে আর সচিবের দপ্তরে ফেরেননি। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গতকাল মঙ্গলবারও সচিবের দপ্তর শূন্য ছিল। তবে পর্দার অন্তরালে ক্ষমতার লড়াই চালু ছিল। সচিব না থাকলেও বাণিজ্যমন্ত্রীর সভাপতিত্বে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কাজকর্মে গতি আনতে মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় একটি সমন্বয় সভার আহ্বান করা হয়। তবে বাণিজ্যমন্ত্রী জরুরি নোটিসে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যাওয়ায় সভাটি প্রায় ঘণ্টাখানেক বিলম্বে শুরু হয়।
অ্যাডমিন ক্যাডারের দ্বন্দ্ব : সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাণিজ্য সচিবের এই নিয়োগ ও যোগদান জটিলতার নেপথ্যে কাজ করছে অ্যাডমিন ক্যাডারের দ্বন্দ্ব। সচিবের রুটিন দায়িত্ব পালন করা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আবদুর রহিম খান ১৫তম ব্যাচের অ্যাডমিন ক্যাডারের কর্মকর্তা।
অপরদিকে বাণিজ্য সচিব হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আতাউর রহমান খান ১৮তম ব্যাচের সাবেক ইকনোমিক ক্যাডারের কর্মকর্তা। সরকার ২০১৮ সালের ১৩ নভেম্বর বিসিএস (ইকনোমিক) ক্যাডারকে বিলুপ্ত করে বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের সঙ্গে একীভূত করে গেজেট জারি করে। ফলে এই ক্যাডারভুক্ত সব কর্মকর্তা ও পদ প্রশাসন ক্যাডারের অংশ হিসেবে গণ্য হন এবং তাঁদের যাবতীয় সুযোগসুবিধা ও জ্যেষ্ঠতা প্রশাসন ক্যাডার অনুযায়ী নির্ধারিত হয়।
সূত্র জানায়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে সচিব হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত আতাউর রহমান খান ওই মন্ত্রণালয়ের সচিবের রুটিন দায়িত্ব পালন করা অতিরিক্ত সচিব আবদুর রহিম খানের তিন ব্যাচ জুনিয়র। ফলে অ্যাডমিন ক্যাডারের একজন সিনিয়র কর্মকর্তাকে ডিঙিয়ে সাবেক ইকনোমিক ক্যাডারের জুনিয়র কর্মকর্তাকে সচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি অ্যাডমিন ক্যাডারের কর্মকর্তারা মেনে নিতে পারেনি।
তারা বিষয়টি নিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। অপরদিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব থেকে পদোন্নতি নিয়ে বাণিজ্য সচিবের পদে যোগ দিতে না পেরে আতাউর রহমান খান যোগাযোগ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে। এই যোগাযোগের পরিপ্রেক্ষিতেই সচিব পদের নিয়োগ সম্পর্কে জানতে বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তবে দুই মন্ত্রীর আলাপ-আলোচনার মধ্যেই আটকে আছে পদোন্নতি পাওয়া নতুন সচিবের ভাগ্য।

