বাংলাদেশি পণ্যে শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা অব্যাহত রাখবে নিউজিল্যান্ড

0
বাংলাদেশি পণ্যে শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা অব্যাহত রাখবে নিউজিল্যান্ড

নিউজিল্যান্ডের অনাবাসিক হাইকমিশনার ডেভিড পাইন বলেছেন, স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের পরও বাংলাদেশি পণ্যের জন্য নিউজিল্যান্ড শুল্কমুক্ত ও অগ্রাধিকারমূলক বাজার সুবিধা অব্যাহত রাখবে। 

এলডিসি-পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশি পণ্যের বাজার প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার বিষয়টি দেশটি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

বুধবার রাজধানীর গুলশানে ডিসিসিআই সেন্টারে ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদের সঙ্গে শ্রীলংকায় নিযুক্ত নিউজিল্যান্ডের অনাবাসিক হাইকমিশনার ডেভিড পাইনের অনুষ্ঠিত এক সৌজন্য সাক্ষাতে এ কথা জানানো হয়।

এ সময় নিউজিল্যান্ডকে বাংলাদেশের ডেইরি, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও খাদ্যপণ্যের সাপ্লাইচেইন ব্যবস্থাপনা খাতে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)।

সাক্ষাৎকালে ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, ডেইরি, দুগ্ধ প্রক্রিয়াজাতকরণ, আধুনিক কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা মানদণ্ডে নিউজিল্যান্ড বিশ্বমানের অবস্থানে রয়েছে। বাংলাদেশের দুগ্ধ প্রক্রিয়াজাতকরণ ও প্রাণিখাদ্য উৎপাদন, ডেইরি খামারের আধুনিকায়ন, গবাদিপশুর উন্নত জাত উন্নয়ন, মৎস, ভেটেরিনারি প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে নিউজিল্যান্ডের অভিজ্ঞতা বিনিময়ের পাশাপাশি বাংলাদেশকে সহায়তার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। 

এছাড়াও বাংলাদেশের কৃষি, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, ভোগ্যপণ্য, খাদ্যপণ্যের সাপ্লাইচেইন ব্যবস্থাপনা, পানি ও জলবায়ু ব্যবস্থাপনা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রভৃতি খাতের উন্নয়নে নিউজিল্যান্ডের বেসরকারি খাতকে একক ও যৌথ বিনিয়োগে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান ঢাকা চেম্বার সভাপতি। 

২০২৫ অর্থবছরে দু’দেশের বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ৪৯৭.৪৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের অধিকতর উন্নয়নে, বাংলাদেশ হতে তৈরি পোষাক, চামড়াজাত পণ্য ও তথ্য-প্রযুক্তি বিষয়ক সেবা প্রভৃতি পণ্য আরও বেশি আমদানির জন্য নিউজিল্যান্ডের উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানান তাসকীন আহমেদ।

জবাবে নিউজিল্যান্ডের অনাবাসিক হাইকমিশনার ডেভিড পাইন বলেন, স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের পরও বাংলাদেশি পণ্যের জন্য নিউজিল্যান্ড শুল্কমুক্ত ও অগ্রাধিকারমূলক বাজার সুবিধা অব্যাহত রাখবে। 

এলডিসি-পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশি পণ্যের বাজারে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার বিষয়টি দেশটি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এ সময় তিনি আরও বলেন, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (এফটিএ) মতো বাণিজ্য কাঠামোর যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে এবং এ লক্ষ্যে উভয় দেশের সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে।

ডেভিড পাইন আরও বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে শুধু রপ্তানি বাজার নয়, আমদানি বাজারও বহুমুখীকরণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। 

খাদ্যপণ্যের উচ্চমান, কঠোর খাদ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও জিএমও-মুক্ত পণ্যের জন্য নিউজিল্যান্ড বিশ্বব্যাপী পরিচিত উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশে একটি স্থিতিশীল ও দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্য কাঠামো গড়ে তুলতে তার দেশ আগ্রহী।

এ সময় ডিসিসিআই’র ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি রাজিব এইচ চৌধুরী ও সহ-সভাপতি মো. সালিম সোলায়মান উপস্থিত ছিলেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here