গীতিকবি মাহফুজা রহমানের গান-কবিতা নিয়ে মনোরম সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা

0
গীতিকবি মাহফুজা রহমানের গান-কবিতা নিয়ে মনোরম সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা

সাহিত্যিক মাহফুজা রহমান ছোটবেলা থেকে কাব্য রচনা করে চলেছেন। সম্প্রতি ‘নতুন এক বৈরাগী আমি’ এবং ‘ছিঃ ছিঃ’ নামে তাঁর দুটি কাব্যগ্রন্থ প্রকাশ হয়েছে। গত ১৭ মে পূর্ব লন্ডনের ব্রাডি আর্টস সেন্টারে গীতিকবি মাহফুজা রহমানের গান ও কবিতা নিয়ে মনোরম সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার আয়োজন ছিল চমৎকার।

ছন্দ, অলংকার ও নান্দনিক ভাষার মাধ্যমে রচিত বই হলো কাব্যগ্রন্থ। আত্মার খোরাক, হৃদয়ের সমস্ত রুদ্ধদ্বার খুলে দেয় কাব্যগ্রন্থ। তাই তো সেদিন উৎসবকে ঘিরে ছিল এত আয়োজন, শ্রোতা দর্শকের ছিল উপচে পড়া ভিড়। বাল্যকাল থেকেই সাহিত্য, গান, আবৃত্তি, নাটক ও শিল্পকলার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত আছেন মাহফুজা রহমান এবং আজও নিরলসভাবে লিখে যাচ্ছেন। স্কুলে দেয়ালপত্রিকা সম্পাদনা ও প্রকাশের মাধ্যমে সাহিত্যচর্চায় তার হাতেখড়ি। মাহফুজা রহমানের কবিতায় দেশপ্রেম, প্রকৃতি, প্রেম বিরহ থাকলেও সমাজের অনাচার, অবিচার, মানবতার অবমাননা, বঞ্চণা, বৈষম্য ইত্যাদি ব্যাপারগুলো উঠে এসেছে বারবার। 

মাহফুজা রহমান, এই গুণী মানুষটি বাংলাদেশ টেলিভিশনের একজন রেজিস্টার্ড গীতিকার। তার বহু গান, বাংলাদেশের প্রথিতযশা সুরকার আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল, প্রণব ঘোষ, ইমন সাহার মতো বিশিষ্ট সুরকাররা সুর করেছেন। সেই সুরারোপিত গানগুলো গেয়েছেন স্বনামধন্য শিল্পী পলাশ, সামিনা নবী, আলম আরা মিনু, অনিমা-ডি-কস্টাসহ অনেকে। লন্ডনের বিভিন্ন সাপ্তাহিকে নিয়মিত মাহফুজা রহমানের লেখা ছাপা হতো। তিনি বহু নাটকে অভিনয় করে খ্যাতি অর্জন করেছেন।

মাহফুজা রহমান তার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২৩ সালে সিটি অব লন্ডন করপোরেশন থেকে ব্রিটেনের প্রাচীনতম ও অত্যন্ত সম্মানজনক পদবি ‌‘ফ্রিডম অব দ্য সিটি অব লন্ডন’ সম্মাননা লাভ করেন। তার স্বামী এমদাদ তালুকদারও সামাজিক কর্মকাণ্ডের জন্যে একই সম্মাননা অর্জন করেন।

ঢাকা ইউনিভার্সিটি আ্যলামনাই ইন দ্য ইউকের সভাপতি সিরাজুল বাছিত চৌধুরীর সার্বিক তত্ত্বাবধানে, কাউন্সিলর সাইদা চৌধুরী ও সৈয়দ জাফরের উপস্থাপনায় এবং মেজবাহ জামালের কণ্ঠে মাহফুজা রহমানের লেখা ‘আলোয় আলোয় যাক বিশ্বভরে, প্রদীপ জ্বালো প্রদীপ জ্বালো সব ঘরে ঘরে’ কবিতা আবৃত্তির সঙ্গে মোমবাতি প্রজ্বালনের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। ঢাকা থেকে আগত বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী সামিনা চৌধুরী মাহফুজা রহমানের লেখা অনেকগুলো গান একাধারে পরিবেশন করেন। গানের সঙ্গে নৃত্য পরিবেশন করেন বুলবুল একাডেমি অব ফাইন আর্টস ইউকের (বাফা) মনিরুল ইসলাম মুকুল, কাজী ফারহানা, সুপ্তি পাল ও নীহারিকা ভৌমিক।

মাহফুজা রহমানের স্বামী এমদাদ তালুকদার এমবিই এ দেশের সাহিত্য ও সাংষ্কৃতিক অঙ্গনে খুবই জনপ্রিয় একজন ব্যক্তিত্ব। তিনিও এই আনুষ্ঠানে মাহফুজা রহমানের কর্মময় জীবন তুলে ধরেন। মাহফুজা রহমানের বই নিয়ে আলোচনা করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা গৌস সুলতান, ‘নতুন এক বৈরাগী আমি’ বইয়ের সম্পাদক কবি হামিদ মোহাম্মদ এবং কলামিস্ট আলমগীর শাহরিয়ার।
 
মাহফুজা রহমানের লেখা গান পরিবেশন করেন ভারত থেকে আগত শিল্পী তৃপ্তি কনা দাস, আশির দশকে বাংলাদেশ টেলিভিশনের জনপ্রিয় শিল্পী ভাতৃদ্বয় সৈয়দ জুবায়ের ও তারেক সৈয়দ। আরও যারা মাহফুজা রহমানের লেখা গান ও কবিতা পরিবেশন করেছেন তারা হলেন- পাপিয়া দাস বাউল, মুজিবুল হক মণি, স্মৃতি আজাদ, মেজবাহ জামাল, এম কিউ হাসান, শারমীন চৌধুরী মিলা, মিজানুর রাহমান, মেজবাহ কামাল, মাহফুজা রহমানের লেখা ইংরেজি কবিতা থেকে পাঠ করেন ররি শিভালিসকি। অনুষ্ঠানে সিরাজুল বাছিত চৌধুরী ও সাঈদা চৌধুরী দম্পতির বিশেষ নৃত্য পরিবেশনা দর্শকদের আনন্দের খোরাক জুগিয়েছে।

মাহফুজা রহমানের জীবন আলেখ্য তুলে ধরেন সাস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ডলি ইসলাম, নিলুফা ইয়াসমীন হাসান ও সৈয়দ জাফর। মাহফুজা রহমানের ওপর বায়োপিক তৈরি করেছেন মিনহাজ কিবরিয়া।

অনুষ্ঠানের সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন শাহগির বখত ফারুখ, তারেক চৌধুরী, ফারুখ আহমেদ, আবু সুফিয়ান, মারুফ চৌধুরী, ইসমাইল হোসেন, মেজবাহ উদ্দিন ইকো, মুসলেহ উদ্দিন আহমেদ, সৈয়দ হামিদুল হক, মাহারুন আহমেদ মালা, মোস্তফা কামাল মিলন, শ্যামল চৌধুরী, শাহাব আহমেদ বাচ্চু, সৈয়দ এনামুল ইসলাম, হাসনাইন চৌধুরী, মাহমুদা চৌধুরী, আজম ফারুখ, সৈয়দা ফারহানা সুবর্ণা, রুবায়েত শারমিন ঝরা, সাইকা মোহাম্মদ ও জেসিকা মোহাম্মদ।

অনুষ্ঠানে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সমাজের বিশিষ্টজনরা উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত সকলের প্রতি নাট্যকার, লেখক, গীতিকবি মাহফুজা রহমানের কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ প্রকাশের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানটিকে সাফল্যমণ্ডিত করতে সহায়তা করেছে- ঢাকা ইউনিভার্সিটি আ্যলামনাই ইন দ্য ইউকে, ব্রিটিশ বাংলাদেশি টিচার অ্যাসোসিয়েশন ইউকে, বাংলাদেশ ল’ অ্যাসোসিয়েশ, সাঈদা সি এবং বাফা ইউকে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here