বলডোনির সঙ্গে লাইভলির সমঝোতা সত্ত্বেও শেষ হয়নি আইনি লড়াই

0
বলডোনির সঙ্গে লাইভলির সমঝোতা সত্ত্বেও শেষ হয়নি আইনি লড়াই

দীর্ঘদিনের আইনি লড়াইয়ের পর অবশেষে সমঝোতায় পৌঁছেছেন হলিউড অভিনেত্রী ব্লেক লাইভলি এবং অভিনেতা-পরিচালক জাস্টিন বলডোনি। ‘ইট এন্ডস উইথ আস’ চলচ্চিত্রের সেটে শুরু হওয়া এই বিবাদ আদালত পর্যন্ত গড়ালেও, সাম্প্রতিক নিষ্পত্তিতে ব্লেক লাইভলি কোনো আর্থিক ক্ষতিপূরণ পাননি বলে জানা গেছে। 

তবে এই সমঝোতার মাধ্যমে বিবাদ মিটে গেছে বলে মনে করা হলেও লাইভলির পক্ষ থেকে করা আইনজীবী ফি এবং মানহানি মামলার পাল্টা ক্ষতির দাবির কারণে আইনি জটিলতা এখনই পুরোপুরি শেষ হচ্ছে না।

সোমবার লাইভলি জাস্টিনের মালিকানাধীন ‘ওয়েফেয়ারার স্টুডিওস’ এবং তাদের জনসংযোগ দলের বিরুদ্ধে আনা তিনটি অভিযোগ প্রত্যাহার করতে রাজি হয়েছেন, যার ফলে আগামী ১৮ মে নির্ধারিত বিচার প্রক্রিয়া এড়ানো সম্ভব হয়েছে। 

এর আগে লাইভলি অভিযোগ করেছিলেন যে, শুটিং সেটে জাস্টিন বলডোনির বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ তোলায় স্টুডিও কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে অবৈধ প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। তবে গত মাসেই তার মূল অভিযোগগুলোর বেশির ভাগ, বিশেষ করে যৌন হয়রানির দাবিগুলো আদালত খারিজ করে দেয়। ফেডারেলে বিচার প্রক্রিয়ার কয়েক মিলিয়ন ডলার ব্যয় এড়াতে উভয়পক্ষ এই গোপনীয় সমঝোতার পথে হাঁটে। 

টিএমজেড এবং ভ্যারাইটিসহ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো নিশ্চিত করেছে যে, এই চুক্তিতে লাইভলি কোনো আর্থিক ক্ষতিপূরণ গ্রহণ করেননি, যা বলডোনি শিবিরের জন্য বড় জয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তবে এই সমঝোতা সত্ত্বেও বলডোনির দায়ের করা ৪০০ মিলিয়ন ডলারের সেই বিতর্কিত মানহানি মামলা নিয়ে জলঘোলা রয়েই গেছে। গত জুনে আদালত এই মামলাটি খারিজ করে দিলেও লাইভলির আইনজীবীরা ২০২৩ সালের ক্যালিফোর্নিয়া আইনের আওতায় বলডোনির বিরুদ্ধে আইনি ব্যয় এবং শাস্তিমূলক জরিমানার দাবি তুলেছেন। এই আইনটি মূলত যৌন নিপীড়নের অভিযোগকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক মানহানি মামলা থেকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য তৈরি করা হয়েছিল। 

যদিও বলডোনির আইনজীবীরা একে অসাংবিধানিক এবং কঠোর বলে অভিহিত করেছেন, তবে নারী অধিকার সংস্থাগুলো লাইভলির এই লড়াইকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে। তাদের মতে, এই মামলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অন্যান্য যৌন হয়রানির শিকার ব্যক্তিদের আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে বড় উদাহরণ হয়ে থাকবে। সব মিলিয়ে বেইজিং বা কান নয়, আপাতত হলিউড ও মার্কিন আদালতের নজর এখন এই হাই-প্রোফাইল মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তির দিকে।

সূত্র: ভ্যারাইটি

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here