ফেব্রুয়ারির শেষে শুরু হওয়া সংঘাত নিরসনে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ প্রস্তাবের বিপরীতে ইরানের জবাবের অপেক্ষায় ওয়াশিংটন। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া বক্তব্যগুলো থেকে বেশ কিছু ভিন্ন ভিন্ন বার্তা পাওয়া যাচ্ছে।
ট্রাম্প তার বক্তব্যে বারবার যেসব বিষয় উল্লেখ করছেন তার মধ্যে প্রধান হলো-যুক্তরাষ্ট্রই সবকিছুর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, ইরানের সামরিক বাহিনী বিধ্বস্ত হয়ে গেছে এবং খুব শীঘ্রই সবকিছুর সমাপ্তি ঘটতে যাচ্ছে।
এছাড়াও ট্রাম্প জোর দিয়ে বলছেন, ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে দেওয়া যাবে না এবং হরমুজ প্রণালীতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা অবশ্যই ফিরিয়ে আনতে হবে।
ট্রাম্পের এসব বক্তব্যের কারণে একটি চুক্তির বিষয়ে তার দেওয়া আশ্বাসগুলোকে কতটুকু গুরুত্বের সাথে নেওয়া উচিত, তা বোঝা কঠিন হয়ে পড়েছে।
গত বুধবার হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প বলেন, ‘তারা একটি চুক্তি করতে চায়। গত ২৪ ঘণ্টায় আমাদের মধ্যে অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে এবং খুব সম্ভব আমরা একটি চুক্তিতে পৌঁছাব।’
ট্রাম্প গত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে একই ধরণের কথা বলে আসছেন। গত ৮ এপ্রিল যখন তিনি দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছিলেন, তখনও তিনি দাবি করেছিলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে অতীতের প্রায় সব বিরোধপূর্ণ পয়েন্টে ঐক্যমত্য হয়েছে, এই দুই সপ্তাহ সময় শুধু চুক্তিটি চূড়ান্ত ও সম্পন্ন করার জন্য নেওয়া হয়েছে।’
সেই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে ঠিকই, কিন্তু বড় কোনো চুক্তির বিষয়ে আর কোনো আলোচনার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
উল্লেখ্য-গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও দখলদার ইসরায়েল ইরানের ওপর হামলা চালায়। এরপর শুরু হয় রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ। যা টানা ৪০ দিন চলে। মার্কিনিদের হামলার জবাবে ওই সময় ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা তাদের সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালায়। এরপর পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীও বন্ধ করে দেয় তেহরান।
পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় গত ৮ এপ্রিল প্রথমে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। ২২ এপ্রিল এটির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার কথা ছিল। তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অনির্দিষ্টকাল পর্যন্ত বৃদ্ধি করেন। এই সংঘাত নিরসনে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ প্রস্তাবের বিপরীতে ইরানের প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায় রয়েছে ওয়াশিংটন।
সূত্র : সিএনএন।

