বগুড়ার রক্তদহ বিলে তলিয়ে যাওয়া পাকা ধান পরিদর্শনে এমপি মহিত

0
বগুড়ার রক্তদহ বিলে তলিয়ে যাওয়া পাকা ধান পরিদর্শনে এমপি মহিত

বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার রক্তদহ বিলে টানা বর্ষণের পানিতে প্রায় ৪০০ বিঘা জমির পাকা ইরি-বোরো ধান তলিয়ে গেছে। বৃষ্টিতে ধান ডুবে যাওয়ায় বিল এলাকার কৃষকদের মাঝে নেমে এসেছে চরম হতাশা ও দুর্ভোগ। 

সোমবার বিকেলে বগুড়া-৩ (আদমদীঘি-দুপচাঁচিয়া) আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল মহিত তালুকদার ক্ষতিগ্রস্ত রক্তদহ বিল এলাকা পরিদর্শন করেন। 

এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুমা বেগম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশরাফুল ইসলাম, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রবিউল ইসলামসহ স্থানীয় কৃষকরা।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণে বিলের অধিকাংশ জমি পানির নিচে চলে যায়। অনেক কৃষক স্বল্প পরিমাণ ধান কাটতে পারলেও দীর্ঘ সময় পানিতে ডুবে থাকার কারণে সেই ধানও অনেকাংশে নষ্ট হয়ে গেছে। কৃষকদের দাবি, পানিতে তলিয়ে থাকায় ধানে চারা গজিয়ে গেছে। যা এখন শুধু হাঁস-মুরগির খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা সম্ভব।

তারা বলেন, প্রতিবছর রক্তদহ বিলে বিপুল পরিমাণ জমিতে ইরি-বোরো ধানের আবাদ হয়। চলতি মৌসুমেও জিরাশাইলসহ বিভিন্ন জাতের ধান চাষ করা হয়েছিল। কিন্তু ধান পাকতে শুরু করার আগমুহূর্তে হঠাৎ টানা বৃষ্টিতে বিলের পানি দ্রুত বৃদ্ধি পায়। অল্প সময়ের মধ্যেই অধিকাংশ জমির ধান তলিয়ে যায়।

বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, রক্তদহ বিলে প্রায় ৩৪০ একর জমিতে ইরি মৌসুমে ধান চাষ করা হয়। 

বিলপাড়ের সাদিরা গ্রামের কৃষক আবু সুফিয়ান জানান, তিনি এ মৌসুমে ৬০ বিঘা জমিতে ইরি-বোরো ধান আবাদ করেছিলেন। কিন্তু আকস্মিক বৃষ্টির পানিতে তার প্রায় সব ধান তলিয়ে গেছে। 

তিনি বলেন, অনেক টাকা ঋণ নিয়ে ধান চাষ করেছিলাম। ধান ডুবে যাওয়ায় এখন পথে বসার অবস্থা। 

পরিদর্শন শেষে সংসদ সদস্য আব্দুল মহিত তালুকদার বলেন, বিলে এসে আমি হতভম্ব হয়ে গেছি। বিপুল সংখ্যক কৃষক ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। সরকারি সহায়তার পাশাপাশি এখন সবচেয়ে জরুরি হলো বিল খনন ও পানি নিষ্কাশনের স্থায়ী ব্যবস্থা করা।

তিনি বলেন, রক্তদহ বিলে ২২টি শাখা খাল দিয়ে পানি প্রবেশ করলেও বের হওয়ার পথ রয়েছে মাত্র একটি। এ কারণে প্রায় প্রতিবছরই জলাবদ্ধতায় ধান তলিয়ে যায়। বিষয়টি নিয়ে নওগাঁর আত্রাই-রানীনগর আসনের সংসদ সদস্য শেখ রেজাউল ইসলাম রেজুর সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছি। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করা হয়েছে। বিল খনন ও পানি নিষ্কাশনের জন্য প্রকল্প জমা দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুমা বেগম জানান, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করে প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here