ফ্রেঞ্চ লিগ আঁ-তে নঁত ও তুলুজের ম্যাচ ভয়াবহ বিশৃঙ্খলার কারণে মাত্র ২২ মিনিটের মাথায় পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। স্বাগতিক নঁতের উগ্র সমর্থকরা গ্যালারি থেকে মাঠে ঢুকে পড়া এবং আতশবাজি ছোড়ার ঘটনায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
পুরো মৌসুমজুড়ে হতাশাজনক পারফরম্যান্সের কারণে ক্ষুব্ধ ছিলেন নঁতের সমর্থকেরা। ৩৩ ম্যাচে মাত্র পাঁচটি জয় পাওয়ায় আগেই নিশ্চিত হয়ে যায় ক্লাবটির অবনমন। ২০১৩ সালে শীর্ষ লিগে ফেরার পর এই প্রথম লিগ আঁ থেকে ছিটকে পড়ল দলটি।
ম্যাচ শুরুর আগেই নঁতের রেলিগেশন নিশ্চিত হয়ে যাওয়ায় লিগের শেষ ম্যাচটিকে বিক্ষোভের মঞ্চ বানান সমর্থকেরা। গোলশূন্য অবস্থায় খেলা চলাকালে ‘স্তাদ দে লা বোজোয়ার’ স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে ফ্লেয়ার জ্বালানো শুরু হয়। এরপর শত শত আল্ট্রাস নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেঙে মাঠের দিকে ধেয়ে আসে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে দুই দলের খেলোয়াড়রা দ্রুত টানেল দিয়ে ড্রেসিংরুমে ফিরে যান। খেলোয়াড় ও স্টাফদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ফরাসি পুলিশ মাঠে নেমে টানেলের মুখ ঘিরে রাখে।
ঘটনার সময় আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন নঁতের কোচ ভাহিদ হালিলহদজিচ। ক্ষুব্ধ সমর্থকদের সঙ্গে কথা বলতে এগিয়ে গেলে তাকে জোর করে আটকে রাখা হয়। ক্লাবের এমন পরিস্থিতি দেখে প্রায় কান্নায় ভেঙে পড়েন ৭৪ বছর বয়সী এই বসনিয়ান কোচ।
খেলোয়াড়ি জীবনে পাঁচ বছর নঁতের হয়ে খেলেছিলেন হালিলহদজিচ। এর আগে ২০১৮ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত কোচ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি। চলতি বছরের মার্চে দ্বিতীয় দফায় দায়িত্ব নিয়ে দলকে অবনমনের হাত থেকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছিলেন, তবে শেষ পর্যন্ত সফল হননি। টেবিলের ১৭ নম্বরে থেকেই মৌসুম শেষ করে নঁত।
দর্শকদের মাঠে অনুপ্রবেশের পর নিরাপত্তাকর্মীরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলেও প্রায় ৪০ মিনিট বন্ধ থাকার পর ম্যাচটি পুরোপুরি পরিত্যক্ত ঘোষণা করেন রেফারি স্টেফানি ফ্র্যাপার্ট।
তিনি বলেন,‘নিরাপত্তাজনিত কারণেই ম্যাচটি স্থায়ীভাবে বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’
এক বিবৃতিতে নঁত ক্লাব জানায়, “কোচ ভাহিদের বিদায়ী ম্যাচ এবং নিজেদের আত্মসম্মানের স্বার্থে ‘ইয়েলো অ্যান্ড গ্রিন্স’রা আজ রাতে বোজোয়ার স্টেডিয়ামে তুলুজ এফসির বিপক্ষে জয় দিয়ে মৌসুম শেষ করতে চেয়েছিল।”
ক্লাবটি আরও বলে, ‘তবে গ্যালারিতে আতশবাজি ফোটানো এবং ২২ মিনিটে (০-০ স্কোরলাইনে) মাঠে দর্শকদের অনাকাঙ্ক্ষিত অনুপ্রবেশের কারণে, প্রশাসন এবং ম্যাচ রেফারি প্যানেল খেলাটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত নেয়।’
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেন ফ্রান্সের ক্রীড়ামন্ত্রী মারিনা ফেরারি। তিনি লেখেন, ‘আমি অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে এই সহিংস কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। পাশপাশি খেলোয়াড় এবং যেসব সাধারণ সমর্থক মাঠে খেলা উপভোগ করতে এসেছিলেন, তাঁদের প্রতি আমার পূর্ণ সমর্থন জানাচ্ছি।’
চলতি মাসের শুরুতেই লঁসের কাছে ১-০ গোলে হেরে নঁতের অবনমন নিশ্চিত হয়। অথচ মাত্র চার বছর আগেও ক্লাবটি নিজেদের ইতিহাসে চতুর্থবারের মতো কোপ দে ফ্রান্স জিতেছিল এবং পরের মৌসুমে হয়েছিল রানার্স-আপ। কয়েক বছরের ব্যবধানে ক্লাবটির এমন পতন মানতে পারছেন না সমর্থকেরা।

